)
টলিউডে তুলকালাম! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘চরিত্র ও আইডিয়া’ চুরির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ফেসবুকে খোলা চিঠি পরিচালক সুমন ঘোষের। আড়াই বছরের খাটনি এক লহমায় বৃথা? পাল্টা মুখ খুললেন অভিনেতা ও ‘অভিমান’ ছবির প্রযোজকেরা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টলিউডে ফের মাথাচাড়া দিল মেধা ও নৈতিকতার লড়াই। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন খোদ ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘অভিমান’-এ প্রসেনজিতের চরিত্রটির সঙ্গে নিজের আগামী ছবির চরিত্রের হুবহু মিল রয়েছে— এই দাবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিলেন পরিচালক সুমন ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বিগত আড়াই বছর ধরে যে ‘স্টার’ (Star) নামক ছবির চিত্রনাট্য ও চরিত্রায়ণ নিয়ে তিনি প্রসেনজিতের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন, প্রায় একই রকম রূপ ও উপাদান ‘অভিমান’ ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই চরম অসৌজন্য ও অনৈতিকতার প্রতিবাদ জানিয়ে সুমন ঘোষ ছবি মুক্তির আগেই ১৭ জুন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে একটি দীর্ঘ ইমেল পাঠান। জনসমক্ষে আসা সেই চিঠিতে ক্ষোভ, অভিমান এবং গভীর যন্ত্রণার সুর স্পষ্ট। অন্যদিকে, এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নীরবতা ভেঙেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্বয়ং এবং ‘অভিমান’ ছবির প্রযোজক সংস্থাও।
সুমনের চিঠিতে বিস্ফোরক ৬ পয়েন্ট
সুমন ঘোষের দাবি, বিগত আড়াই বছর ধরে অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তিনি ও তাঁর দল ‘স্টার’ ছবির স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছিলেন। প্রসেনজিৎকে ভেবেই চরিত্রটির দুটি ভিন্ন বয়স— একাধারে জরাগ্রস্ত, অবক্ষয়ী রূপ এবং অন্যদিকে তরতাজা যৌবনের ইমেজ সাজানো হয়েছিল। এমনকি প্রসেনজিৎকে হোমওয়ার্ক হিসেবে নেটফ্লিক্সের ‘এলভিস’ সিনেমাটিও দেখতে বলেছিলেন পরিচালক। গত ডিসেম্বর মাসে প্রসেনজিতের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘nideas’ ছবিটি প্রযোজনা করবে বলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় এবং বাজেটও পাঠানো হয়।
কিন্তু ‘অভিমান’ ছবির টিজার ও ট্রেলার আসতেই চমকে ওঠেন সুমন। তিনি চিঠিতে নির্দিষ্ট ৬টি ওভারল্যাপের কথা উল্লেখ করেছেন:
১. প্রসেনজিতের দুটি লুক— সুপারস্টার এবং জরাগ্রস্ত রূপ।
২. সুপারস্টারের হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া।
৩. উধাও হওয়ার পর এক ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে বসবাস।
৪. মস্তিষ্কজনিত অসুখে হুইলচেয়ারে বসার দৃশ্য।
৫. নিজের কম বয়সের ছবি ভেঙে ফেলা।
৬. কাঞ্চন মল্লিককে ভাবা হয়েছিল যে বিশ্বস্ত ম্যানেজারের চরিত্রে, তেমন এক ম্যানেজারের উপস্থিতি।
সুমন স্পষ্ট জানান, “যদি ধরেও নিই এগুলো কেবলই ‘কাকতালীয়’, তবুও তোমার তো ‘স্টার’-এর স্ক্রিপ্টটি প্রায় মুখস্থ ছিল। বিবেকের কাছে একবারও কি মনে হলো না যে আমাকে অন্তত জানানো উচিত ছিল?” তিনি আরও যোগ করেন, ইন্ডাস্ট্রির সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তী, শর্মিলা ঠাকুর বা অপর্ণা সেনের মতো কিংবদন্তিদের থেকে প্রফেশনাল এথিক্স শেখা উচিত। এই আচরণ নতুন সিনেমা তৈরি করতে আসা ছেলেমেয়েদের ভরসা ভেঙে দেবে।
(Feed Source: zeenews.com)
