)
Middle East Crisis: এই চরম রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর আমেরিকা, কাতার ও ইরানের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হয়। রয়টার্সের কাছে হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্তা এই চুক্তির সত্যতা স্বীকার করেছিলেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকা ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং লেবাননের ভয়ংকর সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আর এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই তা লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ সকালের এই ধারাবাহিক হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমেরিকার উদ্যোগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আয়োজনের কথা ছিল। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের পরপরই এই হামলার ঘটনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মাঠে মারা যেতে পারে।
হামলার বিবরণ
লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৪টের সময় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ (Nabatieh) অঞ্চল জুড়ে মুহুর্মুহু বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। নাবাতিহ শহর এবং এর আশেপাশের অন্তত ১০টি গ্রামে এই হামলা চালানো হয়।
নাবাতিহর ‘আরবসলিম’ (Arabsalim) শহরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে ছোঁড়া বোমায় অন্তত তিনজন নিরীহ নাগরিক নিহত হন। এছাড়া ‘দেইর জাহরানি’ (Deir Zahrani) নামক এলাকায় বিমান হামলায় আরও একজন এবং ‘দুয়াইর’ (Dweir) শহরের প্রবেশদ্বারে ইসরায়েলি ড্রোনের সাহায্যে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এনএনএ জানিয়েছে, হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বেশ কিছু বহুতল আবাসিক বিল্ডিং ও ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগে নাবাতিহ শহরের কেন্দ্রস্থল এবং এর উপকণ্ঠে ইসরায়েলি আর্টিলারি বা কামান থেকেও ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়।
যুদ্ধবিরতি ও তার পটভূমি
শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের তীব্রতা চরমে পৌঁছনোর পর এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হন এবং এর জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় ১৫০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায়, যাতে ৪৭ জন লেবানিজ নাগরিক প্রাণ হারান।
এই চরম রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর আমেরিকা, কাতার ও ইরানের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হয়। রয়টার্সের কাছে হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্তা এই চুক্তির সত্যতা স্বীকার করেছিলেন। ইসরায়েলি অফিসিয়াল জানিয়েছিলেন, হিজবুল্লাহ যদি আক্রমণ বন্ধ রাখে, তবে তারাও যুদ্ধ বন্ধ রাখবে। কিন্তু বাস্তবে চুক্তি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান পুনর্বহাল করে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অবস্থান
হামলার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফিম ডেফরিন জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেন, হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। বিশেষ করে বুফোর্ট দুর্গ (Beaufort Castle) এবং আলি তাহের পর্বতশ্রেণীতে হিজবুল্লাহর তৎপরতা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)।
কূটনৈতিক সংকট
২০২৬ এর ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে এ পর্যন্ত লেবাননে ৩,৯৮০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন এবং বাড়িঘর হারিয়েছে ১০ লক্ষ বাসিন্দা। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর হামলায় ৩২ জন ইসরায়েলি সেনা ও ৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার যে বৃহত্তর চুক্তি হয়েছিল, এই হামলার ফলে তা বড় ধরনের ধাক্কা খেল।
সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক আলোচনা এই হামলার কারণে সাময়িকভাবে থেমে গিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের একটি বিশাল ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ (Security Zone) গড়ে তোলার ঘোষণা এবং সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার জেদ এই যুদ্ধবিরতিকে শুরু থেকেই অনিশ্চিত করে তুলেছিল। শনিবারের এই প্রাণঘাতী হামলা প্রমাণ করে যে, কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনা এখনও এক দূরহ চ্যালেঞ্জ।
(Feed Source: zeenews.com)
