Offbeat Destination: দিঘা-পুরী তো বারবার যান, এবারের উইকেন্ডে সঙ্গীকে নিয়ে একান্তে সময় কাটান হিজলীর সৈকতে, ফিরতে চাইবেন না গ্যারান্টি

Offbeat Destination: দিঘা-পুরী তো বারবার যান, এবারের উইকেন্ডে সঙ্গীকে নিয়ে একান্তে সময় কাটান হিজলীর সৈকতে, ফিরতে চাইবেন না গ্যারান্টি
Offbeat Destination: প্রিয়জন অথবা পরিজনের সঙ্গে একান্ত সময় কাটাতে হলে চলে আসুন হিজিলী সৈকত। হিজলীর এই রূপ শুধু দেখার নয়, মনের গভীরে আজীবনের জন্য ফ্রেমবন্দি করে রাখার মত এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে আপনার।
বালুকাবেলায় ছড়ানো রঙিন ছাতা, আর দূরে দিগন্তছোঁয়া উত্তাল ঢেউ—ছুটির দিনে হিজলী সৈকতে পা রাখলেই মনে হবে আমি যেন কোনও শিল্পীর জীবন্ত ক্যানভাসে এসে দাঁড়িয়ে আছেন। সপ্তাহের সব ক্লান্তি এক নিমেষে ধুয়ে দিতে হিজলীর মনোরম আবহাওয়ার কোনও তুলনা হয় না। চারপাশের চঞ্চল বাতাস আর চেনা-অচেনা মানুষের কোলাহল মিলে এক অদ্ভুত সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছে এখানে।
পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এই সৈকতে কাটানো মুহূর্ত সত্যিই স্পেশ্যাল হয়ে উঠবে। সমুদ্র সৈকতের বেড়ানো মানেই প্র
থমে দিঘা, মন্দারমনি ও তাজপুরের নাম আসে। কিন্তু ওই সমুদ্র সৈকত গুলিতে চারপাশেই উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এই হিজলী সৈকত অনেকটাই আনকোরা। তাই ভিড় কম। পর্যটকেরা কেউ সমুদ্রের নোনা জলে পা ভিজিয়ে ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠা, আবার কেউ বিস্তীর্ণ বালুচরে বসে প্রিয়জনদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা। আট থেকে আশি, সবার মনে খাঁচায় বন্দি জীবন থেকে এক টুকরো মুক্তির স্বাদ এনে দেবে।
হিজলী সৈকতের মূল আকর্ষণ, দিগন্ত বিস্তৃত শান্ত বালুচর। জিভে জল আনা স্থানীয় স্ট্রিট ফুড। সন্ধ্যা নামার মুখে মায়াবী আলোর রোশনাই। ঘুরতে এসে খাওয়া-দাওয়া হবে না, তা কি হয়? সৈকত জুড়ে বসা রকমারি খাবারের স্টল আর ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো ভোজনরসিক পর্যটকদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। গরম-গরম সামুদ্রিক মাছ ভাজা থেকে শুরু করে ঝালমুড়ি আর চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সমুদ্রের মৃদু গর্জন শোনার যে আনন্দ, তা শহরের কোনও নামী রেস্তোরাঁতেও পাওয়া অসম্ভব।
দিনের আলো যত কমতে থাকে, হিজলীর রূপ ততই বদলাতে শুরু করে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে যখন সমুদ্রের হাওয়া গায়ে এসে লাগে, তখন এক অন্যরকম প্রশান্তি মনে দোলা দেয়। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর রূপোলি ঢেউয়ের গর্জন মানসিক সমস্ত অবসাদকে নিমেষের মধ্যে দূর করে এক স্বর্গীয় অনুভূতির সৃষ্টি করে, যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। দিনের শান্ত ও স্নিগ্ধ রূপ পেরিয়ে সন্ধ্যার নামতেই কৃত্রিম আলোর প্রজ্জ্বলনে এক মোহময়ী সাজে সেজে ওঠে হিজলী সমুদ্র সৈকত। আধুনিক আলোর এই রোশনাই সমুদ্রের অন্ধকার জলরাশির ওপর এক মায়াবী প্রতিচ্ছবি তৈরি করে। যা এক দেখাতেই চোখ জুড়িয়ে দেয়।
হিজলী সৈকত ঘুরে আসা বিশ্বজিৎ মাইতি জানিয়েছেন, “হিজলী সৈকত এক কথায় মায়াবী। দিনের বেলা যতটা সুন্দর রাতে তার সৌন্দর্য আরো ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে জ্যোৎস্না রাতে।প্রকৃতির এই আদিম রূপ আর আধুনিক আলোকসজ্জার এমন অপূর্ব মেলবন্ধন খুব কম সৈকতেই দেখেছি। সন্ধ্যার এই নতুন আবহ সত্যি বলতে আমাকে পুরোপুরি মুগ্ধ ও মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে।”
গুগল লোকেশন: https://maps.app.goo.gl/sxW9sBvr5PkhjvBB9কিভাবে আসবেন! কলকাতা বা হাওড়া থেকে সরাসরি বাসে করে আসা যায়। রাত্রি বাসের জন্য একাধিক বেসরকারি লজ ও হোটেল রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে সব মিলিয়ে বর্ষা মরশুমে প্রিয়জন অথবা পরিজনের সঙ্গে একান্ত সময় কাটাতে হলে চলে আসুন হিজিলী সৈকত। হিজলীর এই রূপ শুধু দেখার নয়, মনের গভীরে আজীবনের জন্য ফ্রেমবন্দি করে রাখার মত এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে আপনার।
(Feed Source: news18.com)