)
Maharashtra Temple collapse: স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, প্রাচীন এই মন্দিরের ছাদটি বেশ কিছুদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল, কিন্তু সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করার কারণেই আজ এত বড় মাশুল দিতে হল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শনিবার উইকেন্ডের সকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের পারভনী জেলা। যশওয়াড়িতে (Yashwadi) ঐতিহাসিক মারুতি মন্দিরের (Maruti Temple) ছাদ আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ৫ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও বহু মানুষ। ঘটনার সময় মন্দিরে প্রচুর ভক্তের সমাগম ছিল বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে পারভনীর যশওয়াড়ি মারুতি মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনার জন্য বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। আচমকাই বিকট শব্দ করে মন্দিরের পুরনো ছাদের একটি বড় অংশ উপস্থিত ভক্তদের মাথার উপর ভেঙে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কংক্রিটের চাঙড়ের নিচে চাপা পড়ে যান বহু মানুষ।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিস প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জখমদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
চিকিৎসকরা প্রাথমিক আহতের হিসেবে ৫ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী দল ও ক্রেন ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর শোকপ্রকাশ
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পৌঁছতেই গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি জেলা প্রশাসনকে দুর্ঘটনায় আহতদের সর্বোত্তম এবং বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সরকারি অনুদান বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ (Ex-gratia) ঘোষণা করেছেন। মৃতদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের পরিবারকেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সাহায্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের নির্দেশ
ঘটনার পর পারভনী জেলাতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মন্দিরের এই কাঠামোগত দুর্বলতা বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, প্রাচীন এই মন্দিরের ছাদটি বেশ কিছুদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল, কিন্তু সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করার কারণেই আজ এত বড় মাশুল দিতে হল।
প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের রিপোর্ট আসার পর গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত পুরো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা ও উদ্ধারকাজে কড়া নজর রাখছে জেলা পুলিস।
(Feed Source: zeenews.com)
