
কী নিয়ে ফের সংঘর্ষের বার্তা
মূলত, অপারেশন সিঁদুরের পরই পাকিস্তানে জলবণ্টন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেয় মোদি সরকার। সেই সময় সিন্ধু নদ জলবণ্টন চুক্তি নতুন করে পর্যবেক্ষণের কথা বলে ভারত। একে একে সিন্ধু নদের জল ঘুরিয়ে দেশবাসীর কাজে লাগানোর কথা বলা হয়। সেই থেকেই ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। সম্প্রতি জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিলের সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে নতুন মন্তব্য এই আগুনে ঘি ঢেলেছে।
এবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের জল সরবরাহ বন্ধের ইঙ্গিত পাওয়ার পর সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, যদি পাকিস্তান বুঝতে পারে-তাদের জল নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, তা হলেই ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববে।
ঠিক কী বলেছেন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
সম্প্রতি এআরওয়াই নিউজকে (ARY News) দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোয়াজা আসিফ বলেন, “যে মুহূর্তে আমরা বুঝতে পারব, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে—আর জল আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই অংশ—আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব।” তবে এই বলেই থেমে থাকেননি পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ভারত যদি খুব দ্রুত জল সরবরাহ বন্ধ বা গতিপথ অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করে, তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে পাকিস্তানের সামনে যুদ্ধ ছাড়া কোনও পথ থাকবে না।
হঠাৎ এই উত্তেজনার পিছনে কী কারণ রয়েছে ?
সম্প্রতি সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেন জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দে়ড় বা ২ বছর অর্থাৎ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানে সিন্ধু নদের জল প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ভারতের তরফে সিন্ধুর এক ফোঁটা জল পাকিস্তানে যাবে না।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জল সংকট ও ‘অর্থনৈতিক গণহত্যা’
ভারতের সঙ্গে এই সংঘাতের আবহে পাকিস্তান নিজেরা চরম অভ্যন্তরীণ জল সংকটে ভুগছে। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিশেষ করে সিন্ধ ও বালুচিস্তানের মতো কৃষিপ্রধান অঞ্চলে ভয়াবহ জলের অভাবে দিন কাটাচ্ছে।
সুক্কুর ব্যারেজ সংকট:
পাকিস্তানের কৃষির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন সুক্কুর ব্যারেজের অববাহিকায় জল প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সিন্ধুর সেচ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, নর্থ ওয়েস্ট ক্যানেলে ৬৪.১%, রাইস ক্যানেলে ৩৮% এবং দাদু ক্যানেলে ৮২% জলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
প্রাদেশিক দ্বন্দ্ব:
এই তীব্র সংকটের জেরে পাকিস্তানের রাজ্যগুলি মধ্যেও অভ্যন্তরীণ বিবাদ শুরু হয়েছে। সিন্ধ প্রদেশের নেতাদের অভিযোগ, পঞ্জাব প্রদেশ তাদের নির্ধারিত বরাদ্দ ৪৪,০০০ কিউসেকের চেয়ে ২১% বেশি (প্রায় ৫৩,৩৯৪ কিউসেক) জল বেআইনিভাবে তুলে নিচ্ছে।
কী বলছে ভারত
তবে পাকিস্তান যুদ্ধের হুমকি দিলও ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, যুদ্ধের হুমকি দেওয়ায় শীঘ্রই নয়াদিল্লি এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেবে।
(Feed Source: abplive.com)
