)
India vs Pakistan: ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার। সিন্ধুর জল না পাওয়ার ভয়ে ছটফট করছে পাকিস্তান। ভারতকে যুদ্ধের হুমকি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। যুদ্ধের হুমকি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সিন্ধু নদের জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা। ভারতের কোনো কাজের ফলে যদি পাকিস্তানের জলের নিরাপত্তা নষ্ট হয়, তবে পাকিস্তান যুদ্ধ করতেও পিছপা হবে না। এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন। খাজা আসিফ বলেন, ‘জল আমাদের দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। আমরা যখনই বুঝব যে আমাদের দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধে যাব।’
ভারতের জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের একটি ভিডিয়ো সম্প্রতি ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্ক আরও বড় আকার ধারণ করে। ওই ভিডিয়োতে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানে সিন্ধু নদের জল দেওয়া একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পাকিস্তান এমনিতেই এখন জলের অভাবে ভুগছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আশঙ্কা করছেন, ভারত যদি জল দেওয়া কমিয়ে দেয় বা জল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে পাকিস্তান চুপ করে বসে থাকবে না।
উত্তেজনার সূত্রপাত
২০২৫-এর এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা হয়। এতে ২৬ জন সাধারণ মানুষকে খুন করা হয়। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। এরপরই ভারত ১৯৬০ সালের ‘সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি’ স্থগিত বা বন্ধ রাখে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছিল। ভারত জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার মতো শক্ত কোনো কাজ করছে, ততক্ষণ এই চুক্তি বন্ধই থাকবে।
চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু নদের প্রায় ৮০ শতাংশ জল পাকিস্তান পায়। এই জল পাকিস্তানের চাষবাস এবং অর্থনীতির জন্য খুবই জরুরি। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষ বিপদে পড়বে বলে ইসলামাবাদ জানাচ্ছে।
জাতিসংঘের দ্বারস্থ পাকিস্তান
এই সমস্যার সমাধানে পাকিস্তান এখন আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্য চাইছে। ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি ভাঙার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার গত সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছে বিচার চেয়েছেন। এর আগে পাকিস্তান অভিযোগ করেছিল, চেনাব নদীর জল অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারত একটি নতুন প্রকল্প তৈরি করছে। পাকিস্তানের মতে, এটি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের বড় ধরনের লঙ্ঘন।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে তীব্র জলসংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ, অন্যদিকে কাশ্মীর ইস্যু- সব মিলিয়ে সিন্ধু নদকে কেন্দ্র করে পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের তিক্ততা আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
