)
মেসির ঐতিহাসিক গোলও বিতর্কে বিদ্ধ! ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে ফুটেজ। গোলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ পিটার স্মাইকেলও! এ কী চলছে বিশ্বকাপে…
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। চাট্টিখানি কথা নয়। এর সঙ্গে এও বলতে হয় যে, বিশ্বকাপে মারাদোনা-মেসির দেশ খেলবে, আর বিতর্ক হবে না, সেটাও আবার হতে পারে না! আর এবার খোদ লিয়োনেল মেসির ‘ঐতিহাসিক গোল’ নিয়েই বিতর্কের ঝড় ধেয়ে এসেছে। আবারও নেটপাড়ায় ঘুরছে চেনা শব্দবন্ধ- ‘ফিফা’স ফেভারিট চাইল্ড আর্জেন্টিনা’! ফিফার আদরের সন্তান আর্জেন্টিনার প্রতি রেফারির অন্ধ পক্ষপাতিত্ব নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। ফের একবার সেই তত্ত্বই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ফুটবলের অগুণতি ফ্যানেরা। বিষয়টি এখানেই শেষ নয়, ডেনমার্কের প্রাক্তন তারকা গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলও লাইভ অনুষ্ঠানে সাফ বলেছেন যে, মেসির গোলটাই তো হয় না! ফিফা আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে বলেই ঝড় উঠেছে…
এবার আসা যাক ঘটনায়
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কাপযুদ্ধের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ারকে ৩-০ চূর্ণ করেছিল। পরের ম্যাচে মেসিরই জোড়া গোলে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে চলে গিয়েছে নকআউটে। মেসি ৩৮ মিনিটে আলমাডার পাস থেকে চমৎকার ফিল্ড গোলে স্কোরশিটে নাম লিখিয়েই পৌঁছে গিয়েছেন এভারেস্টের চূড়ায়। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজের (১৬ গোল) রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ১৭ নম্বর গোলটি করে ফেলেন লিয়ো। আর এই গোলেই তিনি হয়ে যান বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোরার। আর এই গোলের বৈধতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। কারণ গোলের ঠিক আগেই মাঝমাঠে বড় ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার জাভের স্লাগেরকে পিছন থেকে কড়া ট্যাকল করেছিলেন। আর সেখান থেকে বল নিয়েই কিন্তু মেসি নেট করেছিলেন। মেসির গোলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও এই ঘটনা কিন্তু গোলের বিল্ড আপের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে। রেফারির নজরেই আসেনি এই ফাউল! এমনকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের চোখেও কাপড় বাঁধা ছিল! মোদ্দা কথা একটাই- ম্যাক অ্যালিস্টারকে রেফারি কার্ড দেখালে বা ফাউল দিলে, তাহলে ওই গোলই হত না!
কী বলছেন পিটার স্মাইকেল
পিটার স্মাইকেল অকপটে বলে দিলেন যে, মেসির গোলটি ধরাই উচিত হয়নি। তাঁর সংযোজন, ‘আমার মতে গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। একবার ভেবে দেখুন তো ওরা কীভাবে পেনাল্টি বক্সে ঢুকেছিল! জাভের স্লাগেরকে পিছন থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছিল ম্যাক অ্যালিস্টার। ঘটনার প্রেক্ষিতে ফ্রি-কিক দেওয়া উচিত ছিল এবং এক্ষেত্রে ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। রেফারির স্পষ্ট এবং বড় ভুল! আর এই কারণে আমি কিছুটা হতাশ।’ ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ‘শট স্টপার’ এবং অধিনায়ক যখন এই কথা বলেন, তখন বিষয়টি আরও জোরাল হয়।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ
আলজেরিয়াও কিন্তু মেসিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ফিফার কাছে। বিশ্বের ২৮ নম্বর দলের ফেডারেশনের সাফ জানিয়েছে যে, মেসির কড়া ট্যাকল-সহ অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কনুই মারার মতো, তিনটি পৃথক ঘটনাই মাঠে চোখে পড়েনি পোলিশ রেফারি শিমোন মারচিনিয়া ও তাঁর ভিএআর টিমের। তখনও মেসির দলকে নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল!
(Feed Source: zeenews.com)
