)
কেন ‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’র প্রস্তাব ফিরিয়ে ছিলেন সঞ্জীব কাপুর? অক্ষয় কুমারের সঙ্গে কী নিয়ে ঝামেলা বেঁধেছিল দেশের সেলেব শেফের? এবার নীরবতা ভাঙলেন সঞ্জীব। জানালেন আসল কারণ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টেলি দর্শকের কাছে সঞ্জীব কাপুর এবং ‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’ যেন একে অপরের পরিপূরক ছিল। যদিও তৃতীয় ও চতুর্থ সিজনের পর আর তাঁকে পাওয়া যায়নি দেশের এই জনপ্রিয় রান্নার রিয়ালিটি শোয়ে। এখন চলছে সিজন ৯। বিচারকের হটসিটে দেশের তিন সেলেব শেফ- বিকাশ খান্না, রণবীর ব্রার এবং কুণাল কাপুর। তবে আজও অনেকেই জানেন না যে, সঞ্জীব কেন বিচারক হওয়ার প্রস্তাব শুরুতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। দেশের প্রথমসারির খাদ্য ও আতিথেয়তা বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘কালিনারি কালচার’-এ এবার এই নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন যে, শোয়ের নির্মাতারা যখন প্রথমবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি রাজি হননি। অনেকের ধারণা ছিল যে, সঞ্জীবের সঙ্গে সময় মেলেনি বা সৃজনশীল মতপার্থক্যের কারণেই হয়তো তিনি রাজি হননি। তবে আসল কারণ ছিল বেশ অপ্রত্যাশিত। রান্নার জগতে নিজের দক্ষতা ও অবস্থানকে তিনি যেভাবে মূল্যায়ন করতেন, তার সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
সঞ্জীব কাপুর কেন শুরুতে ‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’-র প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?
‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’-র শুরুর দিকের সিজনগুলির জন্য নির্মাতারা যখন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, ততক্ষণে বিচারক হিসেবে অভিনেতা অক্ষয় কুমারের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। শোয়ের ধারণা সঞ্জীবের পছন্দ হয়েছিল ঠিকই, তবে তিনি একটি শর্তও বেঁধে দিয়েছিলেন। সঞ্জীব শোয়ের নির্মাতাদের বলেছিলেন যে, তাঁর অক্ষয় কুমারের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক লাগবে। সঞ্জীবের মতে বিষয়টি ব্যক্তিগ তভাবে ওই অভিনেতার সঙ্গে প্রতিযোগিতার কোনও বিষয়ই ছিল না। বরং তিনি মনে করতেন, যেহেতু শো রান্নাকেন্দ্রিক। তাই এই শিল্পের একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। সঞ্জীব ব্যাখ্যা করেন যে, তিনি অক্ষয় কুমারের চেয়ে মাত্র ১ টাকা বেশি পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন! সঞ্জীবের এই প্রসঙ্গে সংযোজন, ‘ শোয়ের নির্মাতারা যখন প্রথম আমার কাছে আসে, তখন তাঁরা আমার শর্ত মেনে নেননি। আমার শর্ত ছিল যে আমাকে অক্ষয় কুমারের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক দিতে হবে। তবে সেটা মাত্র এক টাকা বেশি। ওটা ছিল প্রথম সিজন, আর আমি ছাড়া অন্য কেউ এই কাজটি করতে পারত না। বিষয়টি ছিল খুবই স্পষ্ট। কিন্তু তাঁরা যখন আমার কাছে এসেছিল, আমি বলেছিলাম, একটা শর্ত আছে। তাঁরা রাজি হয়নি আর আমিও কোনও আপস করতে চাইনি। নিজের সিদ্ধান্তে আমি খুশি ছিলাম।’ সঞ্জীবের দাবি প্রযোজকদের চমকে দিয়েছিল এবং তাঁরা শোয়ের শুরুর পর্বের জন্য তাঁর সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
শেষ পর্যন্ত কীভাবে সঞ্জীব কাপুর ‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে যুক্ত হলেন?
শুরুতে শোয়ের নির্মাতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা যদিও ফলপ্রসূ হয়নি, তবুও ‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে সঞ্জীবের সম্পর্ক সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি। কয়েকটি সিজনের পর আয়োজকরা ফের সঞ্জীবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেফের শর্ত বা প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে সঞ্জীব কাপুর শোয়ের বিচারক হন। তিনি বুঝিয়ে বলেছিলেন যে, ‘বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত প্রাপ্তির নয়। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যেন সামগ্রিক পরিবেশ বা ক্ষেত্রটি আরও বড় ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। আমার মনে হয়েছিল, এই দেশে যদি ‘মাস্টারশেফ’ ব্যর্থ হয়, তবে আমাদের জন্য তা হবে বিপর্যয়কর। ফুড এন্টারটেইনমেন্ট বা খাদ্য-কেন্দ্রিক বিনোদনের ব্যবসার জন্য তা মোটেও ভালো হত না। তাই সাধ্যমতো চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিই। ঠিক এই কারণেই আমি শোয়ে যোগ দিয়েছিলাম। আজও আমার মনে হয়, খাদ্য বা রন্ধনশিল্পের জগতে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সবারই চাওয়া উচিত যেন এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলি সফল হয়।’ সঞ্জীব স্পর্শে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির আলাদাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তিনি অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন এবং ভারতীয় দর্শকদের কাছে শোয়ের নিজস্ব পরিচিতি ও ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সঞ্জীবের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। প্রথম সিজনে অক্ষয়ের শেফ কুনাল কাপুর এবং শেফ অজয় চোপড়া ছিলেন। ‘খিলাড়ি কুমার’ ছিলেন সঞ্চালক ও বিচারক।
মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া সম্পর্কে দু’এক কথা
‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ‘মাস্টারশেফ’ ফরম্যাটের ভারতীয় সংস্করণ, যেখানে শৌখিন রাঁধুনিরা লোভনীয় খেতাব জয়ের লক্ষ্যে রান্নার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২০১০ সালে প্রথমবার সম্প্রচারিত হয়েছিল এই অনুষ্ঠান। যা ভারতীয় দর্শকদের ঘরে ঘরে পেশাদার মানের রান্নার প্রতিযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার সুবাদে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। দীর্ঘ পথচলায় এতে অনেক বিখ্যাত বিচারক ও পরামর্শদাতা যুক্ত হয়েছেন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় খাবার ও রান্নার প্রতিভাকে তুলে ধরার জন্য পরিচিত ‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’ বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য-বিষয়ক রিয়েলিটি শোয়ে পরিণত হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
