)
Do’s and Don’ts during lightening: যদি কোনও নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়া যায়, তবে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে না থেকে বা মাটিতে উবু হয়ে শুয়ে না পড়ে, নিজেকে যতটা সম্ভব সঙ্কুচিত করে বা কুঁজো হয়ে মাটিতে বসে পড়ুন। নিজেকে মাটির কাছাকাছি ছোটো আকারে গুটিয়ে নিলে বাজের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভরদুপুরে আচমকাই আকাশ চিরে নেমে এল একের পর এক বজ্রপাত। প্রবল বৃষ্টি ও মেঘগর্জনের সঙ্গে নজিরবিহীন এক তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা কলকাতা। অবিরাম বজ্রপাতের জেরে মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় শহরের স্বাভাবিক জনজীবন। চারদিকের এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষাকালে বজ্রপাত একটি বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে আকাশ থেকে নেমে আসা এই বিদ্যুৎ। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের যে কোনো দেশের থেকে ভারতে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি এবং গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
কেন কলকাতায় এত ঘন ঘন ও তীব্র বজ্রপাত?
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে উত্তর বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে।
এই দুইয়ের যৌথ প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যের আকাশে ঢুকছে। এর জেরেই আকাশে দ্রুত তৈরি হচ্ছে গভীর বজ্রগর্ভ ‘কিউমুলোনিম্বাস মেঘ’ (Cumulonimbus Cloud), যা প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বঙ্গোপসাগরে গড়ে ওঠা মরশুমের প্রথম ঘূর্ণাবর্ত, যার প্রভাবে বজ্রপাতের তীব্রতা ও ঘনত্ব দু’টিই একধাক্কায় অনেক বেড়ে গেছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাটমোসফেরিক সায়েন্সের অধ্যাপক সুব্রত মিদ্যা জানাচ্ছেন, সাধারণত মার্চ, এপ্রিল, মে এবং জুন মাসে বর্ষা আসার আগে বাজ পড়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। মূলত ‘ক্লাউড টু গ্রাউন্ড লাইটেনিং’ বা মেঘ থেকে মাটিতে নেমে আসা বজ্রপাতের কারণেই মানুষের প্রাণ যায়।
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ‘কী করবেন’ এবং ‘কী করবেন না’
আবহাওয়ার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও, বাজ পড়ার সময় কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে অনায়াসেই জীবন বাঁচানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নিচে জরুরি কিছু নিরাপত্তা টিপস দেওয়া হলো:
১. নিরাপদ আশ্রয় বা ঘরের ভেতরে করণীয়:
বাজ পড়ার সময় বাড়ি বা কাছাকাছি ছাদযুক্ত চার দেওয়ালের কোনো পাকা ঘরে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
ঘরের ভেতরে থাকাকালীন জানালা, দরজা এবং বারান্দা থেকে সবসময় দূরে থাকুন। কংক্রিটের দেওয়ালযুক্ত ঘরের ভেতর থাকা বেশি নিরাপদ।
বাড়ির ভেতরে থাকলেও টিভি, ডেস্কটপ কম্পিউটার বা তারযুক্ত ফোনের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে পারে এমন যেকোনো জিনিস থেকে দূরে থাকুন।
২. খোলা জায়গায় বা মাঠের মধ্যে থাকলে করণীয়:
বাজ পড়ার সময় কখনোই ফাঁকা মাঠে বা খোলা জায়গায় থাকবেন না।
যদি কোনও নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়া যায়, তবে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে না থেকে বা মাটিতে উবু হয়ে শুয়ে না পড়ে, নিজেকে যতটা সম্ভব সঙ্কুচিত করে বা কুঁজো হয়ে মাটিতে বসে পড়ুন। নিজেকে মাটির কাছাকাছি ছোটো আকারে গুটিয়ে নিলে বাজের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
বেশি উচ্চতার জায়গায় বাজ পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই উঁচু কাঠামো, টাওয়ার বা বিদ্যুতের পোলের কাছাকাছি থাকবেন না। ধাতব খুঁটি বা তারের বেড়া থেকেও দূরে থাকুন।
৩. যা একেবারেই করবেন না:
গাছের নীচে আশ্রয় নয়: বজ্রপাতের সময় বড় গাছের নীচে দাঁড়ানো চরম বিপজ্জনক। গাছে বাজ পড়লে সেই বিদ্যুৎ মাটির মাধ্যমে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
ছাতা ব্যবহার এড়ান: মাথার ওপর ধাতব ডাণ্ডাওয়ালা ছাতা তুলে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
যানবাহন চালানো বন্ধ করুন: বজ্রপাত শুরু হলে মোটরবাইক, সাইকেল বা খোলা যানবাহনে যাত্রা অবিলম্বে বন্ধ করুন। এমনকি বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতরে থাকাও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
জল থেকে দূরে থাকুন: পুকুর, নদী, খাল বা সুইমিং পুলের জলে থাকলে অবিলম্বে ডাঙায় উঠে আসুন। জল তীব্র বিদ্যুৎ পরিবাহী, তাই জলের সংস্পর্শে থাকলে বজ্রপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
লক্ষণ দেখে সতর্ক হোন
আকাশ আচমকা কালো হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি, প্রবল মেঘগর্জন বা ঝোড়ো হাওয়া হল বজ্রপাতের প্রধান পূর্বাভাস। এমন লক্ষণ দেখা দিলে আগেভাগেই সচেতন হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া উচিত। সামান্য সতর্কতাই পারে একটি বড়সড় দুর্ঘটনা রুখে দিয়ে আপনার ও আপনার পরিবারের জীবন বাঁচাতে।
(Feed Source: zeenews.com)
