
এই মুহূর্তে কার্যত মৃত্যুপুরী ভেনিজ়ুয়েলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এখনও পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্য়ুর খবর মিলেছে। আহতের সংখ্যা প্রায় ৮০০। তবে খোঁজ মিলছে না কমপক্ষে ১১০০০ মানুষের। তাঁরা ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। যত সময় যাচ্ছে, ততই জীবিত অবস্থায় তাঁদের ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা ক্ষীণ হচ্ছে। (Venezuela Earthquake Situation)
ভেনিজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদরিগেজ জানিয়েছেন, পর পর তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনিজ়ুয়েলা, একটির তীব্রতা ছিল ৭.১, অন্যটির ৭.৫। তবে সেখানেই শেষ প্রকৃতির রোষ থামেনি। ভূমিকম্পের পর কমপক্ষে ৩০টি আফটারশক অনুভূত হয়। আর তাতেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
US Geological Survey জানিয়েছে, কারাকাস থেকে ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল। ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরতা থেকে ছড়িয়ে পড়ে কম্পন। গত ১০০ বছরের বেশি সময় পর এত তীব্র ভূমিকম্প হল ভেনিজুয়েলায়। আর তাতেই লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে সবকিছু। ক্ষয়ক্ষতি চোখে পড়ছে ব্রাজিলের অ্যামাজন অরণ্য পর্যন্ত, যেখান থেকে কারাকাসের দূরত্ব ১৭০০ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পে দেশের প্রধান বিমানবন্দর, সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে বন্ধ রাখতে হয়েছে বিমানবন্দরটি। স্কুল-কলেজ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের সরকার। সকলকে শান্তি এবং ঐক্য বজায় রাখতে আবেদন জানিয়েছে ডেলসি। পুনরায় ভেনিজ়ুয়েলাকে দাঁড় করাতে ২০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজ়ুয়েলার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। উদ্ধারকার্য চালাতে বিশেষ টিমও পাঠিয়েছেন আমেরিকা থেকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং অন্যরা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন, পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তবে শুধুমাত্র ভেনিজ়ুয়েলাই নয়, এদিন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে জাপানও। সেখানে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭।
(Feed Source: abplive.com)
