Murshidabad Kiriteshwari Temple: পৌরাণিক মতে, এখানে পড়েছিল সতীর মুকুট বা কিরীট। সেখান থেকেই মন্দিরের নাম কিরীটেশ্বরী। গ্রামেরও একই নামকরণ। বেঙ্গল শক্তিপীঠ ঘিরে পর্যটনে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।News18
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: মুর্শিদাবাদের অন্যতম সতীপীঠ কিরীটেশ্বরী মন্দির। সেরা পর্যটন গ্রামের পর এবার নতুন মাত্রা। বাজেটকে কেন্দ্র করে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন পুরোহিত থেকে গ্রামের বাসিন্দা সকলেই। রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শক্তিপীঠগুলিতে পর্যটনের উন্নয়নে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। ঘোষিত বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটের মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রামের কিরীটেশ্বরী শক্তিপীঠও। রাজ্যজুড়ে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থান পুনরুদ্ধার করে পর্যটক টানতে হেরিটেজ কমিশন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত সোমবার রাজ্য বাজেটে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’-এ কিরীটেশ্বরীর নাম ঘোষণা হতেই খুশির হাওয়া জেলাজুড়ে।
পর্যটনের পথ চেয়েমন্দিরের পুরোহিত জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রক কিরীটেশ্বরীকে দেশের সেরা পর্যটন গ্রাম হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তারপর প্রায় তিন বছর কেটে গিয়েছে। পর্যটন পরিকাঠামোর কোনও উন্নতি হয়নি। রাজ্য সরকার ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। খুব ভাল খবর। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে কিরীটেশ্বরী আরও পরিচিতি লাভ করবে এবং সেই সঙ্গে এখানকার পর্যটন চাঙ্গা হবে। রাজ্যের মন্ত্রী তথা মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, এর আগে পূর্বতন কোনও সরকার ঐতিহ্যবাহী শক্তিপীঠগুলিতে পর্যটক টানতে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকার শক্তিপীঠগুলিকে এক সুতোয় বেধে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, শুধু সার্কিটে অন্তর্ভুক্ত করলেই হবে না। লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে কিরীটেশ্বরীর ইতিহাস এবং সতীপীঠের ইতিহাস মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। হোম স্টে-র জন্য সরকারিভাবে গ্রামবাসীকে উৎসাহিত করতে হবে। পর্যটক টানতে প্রচারে জোর দিতে হবে।
মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম থানার কিরীটেশ্বরী মৌজায় কিরীটেশ্বরী মন্দির সম্ভবত এই জেলার প্রাচীনতম মন্দির। দেবীর নাম অনুসারে গ্রামের নাম হয়েছে কিরীটেশ্বরী। পুরাণ কাহিনী অনুসারে এখানে দেবী সতীর কিরীট অর্থাৎ মুকুটের কণা পতিত হয়েছিল। এইজন্য এই স্থানটিকে মহাপীঠ বলে। পাঠান-মুঘল শাসনকালেও এই স্থানের খ্যাতি ছিল। ১৪০৫ সালে আদি দক্ষিণমুখী মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। আদি মন্দিরটি বর্তমানে লুপ্তপ্রায়। গ্রামের দক্ষিণ অংশের কয়েক বিঘা জায়গাজুড়ে কিরীটেশ্বরী বর্তমান মন্দির এবং আরও কয়েকটি মন্দির অবস্থিত। বিশেষ তিথিতে পুজো-পার্বণ উপলক্ষে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে মন্দিরে।