‘কেতন মার্ডার’ মনে করাচ্ছে ‘রাজা রঘুবংশী’ খুনের মামলা,কেন ‘কাছের মানুষের’ হাতেই মরতে হল দু’জনকে? এই দুই নৃশংস পরিণতির মূলে আসল ‘দোষ’টা কার?

‘কেতন মার্ডার’ মনে করাচ্ছে ‘রাজা রঘুবংশী’ খুনের মামলা,কেন ‘কাছের মানুষের’ হাতেই মরতে হল দু’জনকে? এই দুই নৃশংস পরিণতির মূলে আসল ‘দোষ’টা কার?
Ketan Agarwal To Raja Raghuvanshi: কেতন আগরওয়াল আর রাজা রঘুবংশী খুনের মামলায় সবথেকে বড় এবং সবথেকে মর্মান্তিক মিল কোথায় জানেন? রাজা র কেতন দু’জনেকি মরতে হল সবচেয়ে কাছের মানুষের হাতে। অন্তত তাঁরা যাকে সবচেয়ে কাছের মানত। কেন এতটা চরম পরিণতি বেছে নিলেন সোনাম বা সিয়া? যা বলছেন চিকিৎসক
সদ্য খুন হয়েছেন পুণের ব্যবসায়ী-পুত্র কেতন আগরওয়াল। ঠিক কী ঘটেছিল? পরিবারের ঠিক করা ছেলেকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি, পাসপোর্ট লুকিয়ে বালি যাওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে রাজস্থানের লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। তার পর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে বাগদত্তকে খুন। কেতন আগরওয়ালের খুনের খবর শোরগোল সৃষ্টি করেছে। সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছেন বাগদত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরি। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, প্রেমিক চেতনের সঙ্গে মিলে ‘হবু বর’ কেতনকে খুন করেছেন সিয়া।
প্রায় একইরকম ঘটনা ঘটেছিল গতবছর মে মাসে। রাজা রঘুবংশী মার্ডার! ২৩ মে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান রাজা এবং তাঁর স্ত্রী সোনম। ২ জুন রাজার দেহ উদ্ধার হয়। রাজাকে খুনের অভিযোগে সোনমের প্রেমিক, তিন ভাড়াটে খুনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার করা হয় সোনমকে। এই হত্যকাণ্ড গোটা দেশে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। কী ভাবে মধুচন্দ্রিমায় নিয়ে গিয়ে রাজাকে খুন করা হয়, সেই ঘটনার পরতে পরতে ছিল রহস্য।
কেতন আগরওয়াল আর রাজা রঘুবংশী, এই খুনের ঘটনা প্রায় একই তারে বাঁধা। ফারাক শুধু একটাই, রাজা আর সোনমের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। আর এদিকে কেতন আর সিয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বাকি সব মোটামুটি এক। দুই মামলাতেই প্রধান অভিযুক্ত ‘নারী চরিত্র’। রাজা রঘুবংশী মামলায় প্রধান অভিযুক্ত স্ত্রী সোনম। আর কেতন মার্ডার কেসে প্রধান অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া।
এই দুই ঘটনাই শোরগোল ফেলে সমাজমাধ্যমে। হালকা ছলে অনেক পুরুষই বলছেন, আর বিয়ে করবেন না! কেউ বা বলছেন, হানিমুনে যাবেন না! কিন্তু বিষয়টা বোধহয় এতটাও সহজ নয়। যেখানে সদ্য বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী সুখের সপ্তম স্বর্গে থাকবে, সেখানে কেন খুন করতে হচ্ছে স্বামীকে? কেন হানিমুনে গিয়েই মরতে হল রাজা রঘুবংশীকে?
অথবা যদি কেতনের ঘটনাটা ধরি, যেখানে সামনে ১৭ কোটি টাকা খরচের বিয়ে, সেখানে হবু বর বউ তো বিয়ের প্ল্যানিং নিয়েই ব্যস্ত থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক! কিন্তু সিয়া কেন বিয়ের প্ল্যানিং ছেড়ে কেতনকে মারার প্ল্যানিং করতে লাগল? কেন বিয়ের আগেই খুন হতে হল কেতনকে?
কলকাতার অ্যাপোলো হসপিটালের কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,এক্ষেত্রে ক্রিমিন্যাল সাইকোলজির থেকেও বেশি গুরুত্ব পায় সোশ্যাল সাইকোলজি। এইসব ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু পরিবারকে খুব গভীরভাবে স্টাডি করি না। যিনি মারা গিয়েছেন, এবং যিনি সম্ভাব্য হত্যাকারী, তাদের নিয়ে যত আলোচনা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে পরিবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনও মহিলার ইচ্ছের বিরুদ্ধে অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে দেওয়া, এটা বহুদিন ধরে চলে আসছে। আজও বহু বাড়িতে এটা হয়।
‘কেতন মার্ডার’ মনে করাচ্ছে ‘রাজা রঘুবংশী’ খুনের মামলা,কেন ‘কাছের মানুষের’ হাতেই মরতে হল দু’জনকে? এই দুই নৃশংস পরিণতির মূলে আসল ‘দোষ’টা কার?

আর কী বলছেন চিকিৎসক? যে সিদ্ধান্তটা মেয়েটিকে নিতে বাধ্য করা হয়েছে, সেটা কিন্তু একদিনের ঘটনা নয়। বাড়ির মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিত্যদিন দেখা যায়। আজও দেখা যায়। সেখানে হয়তো এতটা চূড়ান্ত পরিণতি পর্যন্ত যায় না। কিন্তু মেয়েটির মধ্যে ক্ষোভ থেকে যায়। সেই ক্ষোভ থেকে তাঁর স্বভাবে পরিবর্তন আসে। ১০ হাজারের মধ্যে একজন খুনের মতো ঘটনা ঘটান। বাকিরা কিন্তু পরিবারের বিরুদ্ধে যে রাগ রয়েছে, সেটা নিজের মধ্যে পোষন করেন। তারপর কী হয়? হয় সম্পর্ক টেকে না, নয় পরকীয়ার দিকে যায়, অথবা রাগ পুষতে পুষতে তারা নিজেরা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন, কেউ বা ভায়োলেন্ট হয়ে যান, কেউ বা তার বর্তমান স্বামী বা পরিবারের উপর সেই ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটান।

চিকিৎসক এও জানান, একটা পরিবার হিসাবে প্রথমেই যেটা করা উচিৎ সেটা হল, কারও উপর কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয় যাবে না। আমরা দেখছি একজন অন্যজনকে মেরে ফেলছে, কিন্তু এর উলটোটাও হয়। মানুষ নিজেও আত্মঘাতী হন। একটা প্রজন্ম বা সমাজের মত অন্যজনের উপর চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
(Feed Source: news18.com)