Sa Re Ga Ma Pa Grand Finale: LIC কর্মী বাবা ও গৃহবধূ মায়ের স্বপ্নপূরণ হবে? ইন্ডিয়ান আইডল থেকে খালি হাতে ফিরেছেন হাওড়ার ছেলে, এবার সৃজন পোড়েল কি পারবে সা রে গা মা পা-য়ের মঞ্চে জয়ী হতে?
আন্দুলের সৃজন পোড়েল এখন বাংলার গর্ব! মাত্র ৪ বছর বয়সে গানের হাতেখড়ি, ‘সা রে গা মা পা’-র টপ ফাইভে, মা-বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে গ্র্যান্ড ফিনালের আগে উচ্ছ্বাস হাওড়াজুড়ে…
হাওড়া, রাকেশ মাইতি : আন্দুলের সৃজন পোড়েল এখন বাংলার গর্ব! মাত্র ৪ বছর বয়সে গানের হাতেখড়ি, জি বাংলার ‘সা রে গা মা পা’-র টপ ফাইভে, মা-বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে গ্র্যান্ড ফিনালের আগে উচ্ছ্বাস হাওড়াজুড়ে। জি বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীত রিয়্যালিটি শো ‘সা রে গা মা পা’-র মঞ্চে হাওড়ার আন্দুলের ছেলে সৃজন পোড়েল এখন অন্যতম আলোচিত নাম। একের পর এক অনবদ্য পারফরম্যান্সে বিচারক ও দর্শকদের মন জয় করে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন প্রতিযোগিতার টপ ফাইভে।পরিবারের প্রথম গায়ক হিসেবে আজ সারা বাংলার দর্শকের কাছে পরিচিতি পেলেও, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং বাবা-মায়ের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের লড়াই। আগামী ২৮ তারিখ গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত ফলাফল। ইতিমধ্যেই টপ ফাইভে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছেন সৃজন। এখন সবার নজর, আন্দুলের এই তরুণ শিল্পী শেষ পর্যন্ত কত নম্বর স্থান দখল করেন। সেই দিনটির অপেক্ষায় এখন সৃজনের পরিবার, অনুরাগী এবং গোটা হাওড়া।
হাওড়ার আন্দুলের নিমতলার বাসিন্দা সৃজনের সঙ্গীতযাত্রা শুরু মাত্র চার বছর বয়সে। ছোটবেলা থেকেই টিভি ও রেডিওতে গান শুনে গুনগুন করত সে। সেই আগ্রহ লক্ষ্য করেছিলেন তাঁর বাবা-মা। এরপর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মিউজিক শিক্ষিকাও সৃজনের সঙ্গীতের প্রতি ঝোঁকের কথা পরিবারকে জানালে, পরিবারের গুরুত্ব আরও বাড়ে। এরপর বাড়ির কাছেই এক প্রবীণ সঙ্গীত শিক্ষকের কাছে তাঁর গানের হাতেখড়ি।পরবর্তীকালে বেহালার অরুণিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গান শেখা শুরু করেন। বর্তমানে নির্ঝর শর্মা ও সীমান্ত সরকারের কাছে তালিম নিচ্ছে সৃজন। পাশাপাশি হাওড়ার প্রশান্ত স্যারের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেরও শিক্ষা নিয়েছেন।
সৃজনের পরিবারে পেশাদারভাবে গানের সঙ্গে যুক্ত কেউ না থাকলেও সঙ্গীতের পরিবেশ ছিল। মামা দাদুর বাড়িতে একসময় গানের চর্চা ছিল, মায়ের ঠাকুমাও গান-বাজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবা ছোটবেলায় তবলা বাজালেও আর্থিক কারণে সেই চর্চা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। তাই ছেলের মাধ্যমে নিজেদের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেছেন সৃজনের বাবা-মা। পরিবারের প্রথম গায়ক হিসেবেই আজ তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তিনি সমান মনোযোগী। কিশলয় কেজি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে শিবপুর এসএসপিএস বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বর্তমানে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গীত নিয়ে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা। তাঁর বাবা এলআইসি-র কর্মী এবং মা গৃহবধূ। পরিবারের সদস্য বলতে বাবা-মা, সৃজন এবং তাঁর দিদি। দিদির বিয়ে হয়েছে তিন বছর আগে।
রিয়্যালিটি শো-এর মঞ্চে সৃজনের পথচলাও সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে বাংলা ‘সা রে গা মা পা’-র অডিশনে অংশ নিলেও মূল প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাননি। পরে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর অডিশনে নির্বাচিত হয়ে মুম্বই যান এবং সেখানে টপ ১২ প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা করে নেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই ফের ‘সা রে গা মা পা’-র মঞ্চে ফিরে আসেন এবং এবার নিজের যোগ্যতায় পৌঁছে যান টপ ফাইভে।’সা রে গা মা পা’-র মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং একাধিক গোল্ডেন গিটার জিতে নজর কেড়েছেন সৃজন। তাঁর গায়কি পরিপক্বতা, কণ্ঠের রেঞ্জ এবং মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি বিচারক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে বিচারক রূপম ইসলামের প্রশংসাও পেয়েছেন তিনি।
গানের পাশাপাশি অবসর সময়ে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে ভালবাসে সৃজন। মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই মঞ্চে গান গাওয়া শুরু হয়। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ভবিষ্যতে প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। আর দিনের শেষে এখনও মায়ের হাতের রান্নাই তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। ২৮ শে জুন জি বাংলার ‘সা রে গা মা পা’-র গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে সবার নজর থাকবে সৃজন পোড়েলের দিকে। বাংলার এই তরুণ গায়ক শেষ পর্যন্ত কত নম্বর স্থান দখল করেন, সেটাই জানার অপেক্ষায় তাঁর পরিবার, অনুরাগী এবং গোটা হাওড়াবাসী। তবে ফলাফল যাই হোক না কেন, নিজের প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমে ইতিমধ্যেই তিনি হাজার হাজার সঙ্গীতপ্রেমীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।