শোয়েব আখতারের দাদার শেষকৃত্যে হাজির লস্কর জঙ্গিরা, পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ডও? ভিডিও ভাইরাল

শোয়েব আখতারের দাদার শেষকৃত্যে হাজির লস্কর জঙ্গিরা, পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ডও? ভিডিও ভাইরাল

 

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শোয়েব আখতারের দাদার শেষকৃত্যে হাজির জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার নেতৃত্ব। সেই ছবি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পাকিস্তানে জঙ্গিরা যে নিরাপদ আশ্রয়েই রয়েছে, তা আবারও প্রমাণিত হয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। (Shoaib Akhtar Brother Funeral)

শোয়েব আখতারের দাদা শাহিদ আখতারের শেষকৃত্যের যে ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছে পাকিস্তান মরকজি মুসলিম লিগ (PMML), তা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। PMML আসলে লস্করেরই ছায়া সংগঠন। তাদের দেওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রয়েছেন। হাফিজের হাতেই লস্করের প্রতিষ্ঠা। (Pakistan News)

ইসলামাবাদে PMML-এর প্রধান ইনাম-উর-রহমান কম্বোধকে দেখা গিয়েছে ছবিতে। PMML-এর সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লা তুর, PMML-এর জোনাল জেনারেল সেক্রেটারি হাফিজ উমর, খিদমত কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ ভাট্টি এবং অন্যদেরও দেখা গিয়েছে। মৃতের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করতে দেখা গিয়েছে তাদের।

শুধু তাই নয়, লস্কর জঙ্গি সইফুল্লা কসুরি, যে কি না ২০২৫ সালের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মূলচক্রী, তাকেও দেখা গিয়েছে শেষকৃত্যে। ইসলামাবাদের H-8 সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হয় শাহিদকে। সেখানেই সকলে উপস্থিত ছিল বলে জানা যাচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ আগেই হাফিজকে জঙ্গি ঘোষণা করেছে। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে PMML-এর প্রতিষ্ঠা হয় লস্করের ছায়া সংগঠন হিসেবে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিল তারা। শোয়েব ২০১১ সালেই ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। একসময় IPL-এও ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেছেন।  

তিন দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শাহিদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাদার মৃত্যুর খবরে সিলমোহর দেন শোয়েব। তিনি লেখেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রিয় দাদা শাহিদ আখতার আল্লাহ্-র কাছে ফিরে গিয়েছেন। নমাজ-ই-জনাজার সময় এবং জায়গা সকালে জানিয়ে দেওয়া হবে’। আর তার পরই শেষকৃত্যের ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

দাদার শেষকৃত্যে লস্করের ছায়া সংগঠনের সদস্যদের হাজিরা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি শোয়েব। তবে ভারতের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ পাকিস্তান যে জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়, সেখানে জঙ্গিরা যে অবাধে ঘুরে বেড়ায়, আবারও তার প্রমাণ মিলল। আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি বার বার তুলে ধরেছে ভারত। আবারও হাতেনাতে তার সপক্ষে প্রমাণ উঠে এল।

যে সইফুল্লাকে দেখা গিয়েছে শোয়েবের দাদার শেষকৃত্যে, সে লস্করের ডেপুটি প্রধান। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের হত্যাকাণ্ডের সেই মূলচক্রী বলে জানা যায়। এবছর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ভিডিও সামনে আসে, যাতে প্রকাশ্যে ভারতকে হুমকি দিতে দেখা যায় তাকে। জলে-স্থলে-আকাশে শত্রুর অস্তিত্বই থাকবে না বলে ঘোষণা করে সে। সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ‘জল-সন্ত্রাসে’র অভিযোগও তোলে সে।