
Cape Verde Stomach Bug Infection: ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে কেপ ভার্দে। আফ্রিকার এই ছোট্ট দেশ তাদের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ অভিযানে পৌঁছে গিয়েছে নক আউটে। কিন্তু জানেন কি এই দ্বীপপুঞ্জে বেড়াতে গিয়ে পর্যটকরা মারণ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন।
ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক তৈরি করল কেপ ভার্দে৷ অভিষেক অভিযানেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ড্র করে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে পৌঁছে গেল নক আউটে৷ এ বার নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্তিনা৷ মধ্য অতলান্তিক মহাসাগরে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে এই উপকূলীয় দেশ এখন বিশ্ববাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রে৷ পঞ্চদশ শতকে পর্তুগিজ অভিযাত্রীদের হাতে তৈরি হওয়া দেশটি নিয়ে চড়ছে আকর্ষণের পারদ৷ অনেক ফুটবলপ্রেমী নামই জানতেন না ছোট্ট দেশটির৷ কিন্তু জানেন কি ইউরোপীয়দের মধ্যে অনেক দিন ধরেই ছুটি কাটানোর পছন্দের গন্তব্য এই দ্বীপপুঞ্জ৷
শুধু গৌরবের কারণেই নয়৷ সাম্প্রতিক অতীতে নেতিবাচক কারণেও শিরোনামে এসেছে কেপ ভার্দে৷ চলতি বছরের গোড়ায় কেপ ভার্দেতে পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই ব্রিটিশ পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনা দ্বীপটি ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ, কেপ ভার্দেতে বেড়াতে গিয়ে শিগেলা সোনাই নামক এক ডায়রিয়া জনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন পর্যটকরা এবং তাঁদের মধ্যে ব্রিটিশ পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে৷
প্রসঙ্গত ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে, হারিকেন এরিন কেপ ভার্দে-র জল ও পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্কের ক্ষতিসাধন করে। তার পর থেকেই অভিযোগ, দূষিত মলের সংস্পর্শের মাধ্যমে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অথবা পরোক্ষভাবে খাদ্য, জল বা কোনও সারফেস থেকে ছড়ায় শিগেলা। গত তিন বছর ধরে কেপ ভার্দের মানসম্পন্ন হোটেলগুলোতে শিগেলা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে, এতে ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন৷ কেপ ভার্দেতে ভ্রমণকালে অনেক ব্রিটিশ নাগরিক পেটের পীড়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (UKHSA) সেখানে ভ্রমণ নিয়ে জনগণকে সতর্ক করেছে।
কারণ যে শিগেলা ব্যাকটেরিয়া রোগটি ঘটায়, তা শুধু মারাত্মক ডায়রিয়াই সৃষ্টি করে না, এর থেকে প্রাণঘাতী জটিলতাও দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে। পর্যটকদের বলা হয়েছে শুধুমাত্র ফোটানো বা মিনারেল ওয়াটার পান করুন। স্যালাড খাওয়া এড়িয়ে চলুন৷ নিয়মিত হাত ধোবেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ওপর নির্ভর না করে উষ্ণ, সাবানজল দিয়ে হাত ধোওয়াই শ্রেয়।
প্রসঙ্গত শিগেলা এবং সালমোনেলা উভয়ই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ যা অন্ত্রকে প্রভাবিত করে এবং এর ফলে ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটে তীব্র ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যদিও আক্রান্তদের অনেকেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন, তবে ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং যাদের আগে থেকেই কোনো অসুস্থতা বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে, তারা গুরুতর উপসর্গ অনুভব করতে পারেন এবং প্রাণনাশের মতো জটিলতায় ভুগতে পারেন।
এই দুটি ব্যাকটেরিয়া দূষিত মলের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়, যা সরাসরি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অথবা পরোক্ষভাবে অপরিষ্কার খাবার, জল বা সারফেস থেকে সংক্রমিত হতে পারে। কেপ ভার্দে ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে-এমন খাবার খান যা সদ্য প্রস্তুত, পুরোপুরি রান্না করা এবং গরম গরম পরিবেশন করা হয়। বোতলজাত বা ফোটানো জল পান করুন এবং পানীয়তে বরফ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। দাঁত ব্রাশ করার সময় বোতলজাত বা ফোটানো জল ব্যবহার করুন। শুধুমাত্র নিজে খোসা ছাড়ানো ফলই খাবেন। যে স্যালাড পরিষ্কার জলে ধোয়া হয়নি, তা এড়িয়ে চলুন।
শিগেলা ও সালমোনেলাকে Stomach Bug-ও বলা হয়৷ শিগেলা ও সালমোনেলা-সহ পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ এড়ানোর বা অন্যদের মধ্যে তা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার সবচেয়ে ভাল উপায় হল সাবান ও জল অথবা অ্যালকোহল জেল দিয়ে নিয়মিত ও ভালভাবে হাত ধোয়া – বিশেষ করে শৌচাগার ব্যবহারের পর, শিশুর ডায়াপার বদলানোর পর এবং খাওয়ার বা খাবার তৈরির আগে।
UKHSA-এর সতর্কবার্তার পর জারি করা এক বিবৃতিতে কেপ ভার্দের সরকার বলেছে যে, দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী “কেপ ভার্দের ভূখণ্ডে কোনও ঘোষিত শিগেলা প্রাদুর্ভাব নেই।” এতে বলা হয়েছে যে, গ্রেট ব্রিটেন থেকে এমন কোনও “আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি” আসেনি যে কেপ ভার্দে কোনও মহামারি প্রাদুর্ভাবের উৎস ছিল, এবং দেশটিতে “সক্রিয় ও সমন্বিত স্বাস্থ্য নজরদারি ব্যবস্থা” রয়েছে। বিশ্ব দরবারে তাদের দেশের ভাবমূর্তি অটুট রাখতে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে কেপ ভার্দের তরফে৷
(Feed Source: news18.com)
