)
Pune Ketan Agarwal Murder Case: চেতনের আর্থিক অবস্থা খুব একটা সচ্ছল নয়। তাই সে সিয়ার থেকে তিন বছর সময় চায়। তারপর কেতনকে খুনের ছক কষে। এরই মধ্যে সিয়া আবার কেতনের থেকে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পুণের কেতন খুনে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার কী সামনে এল? পুলিস জানিয়েছে, বিয়ের শপিংয়ের নামে সিয়া কেতনের থেকে এক কোটি টাকা নেয়। তারপর সেই টাকা নিজের কাজে না লাগিয়ে প্রেমিক চেতনের হাতে তুলে নেয়। গত রবিবার ঘটনার ১০ দিন পর পুলিস সিয়াকে পুনর্নির্মাণ করার জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়
১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক
বিয়ের প্রস্তুতির কথা বলে সিয়া গয়াল তাঁর হবু স্বামী কেতন আগরওয়ালের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা নেয়। কিন্তু সেই টাকা বিয়ের কাজে লাগানো হয়নি। বরং, সিয়া সেই পুরো টাকা চেতন চৌধুরীকে দিয়ে দেয়। যাতে চেতন নিজের কেরিয়ার ও ব্যবসা দাঁড় করাতে পারে। কারণ চেতনের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। সে সিয়াকে জানিয়েছিল, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে তার অন্তত তিন বছর সময় লাগবে।
তিন বছর পর বিয়ের পরিকল্পনা
খুনের পর যাতে কোনো সন্দেহ তৈরি না হয়, তার জন্য সিয়া তিন বছর বিয়ে না করে থাকবে বলে ঠিক করেছিল। চেতন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পর এবং এই খুনের ঘটনা মানুষের স্মৃতি থেকে ফিকে হয়ে গেলে, তারা বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, তদন্তের জাল থেকে বাঁচতে এবং শেষ পর্যন্ত সিয়ার পরিবারের যাতে তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়, তার জন্যই এই দীর্ঘমেয়াদী টাইমলাইন তৈরি করা হয়েছিল।
সিগন্যাল দিয়ে খুনের হাড়হিম কৌশল
তদন্তে জানা গিয়েছে, লোহগড় দুর্গে কেতনকে খাদে ফেলে দেওয়ার সময় সিয়া নিজে হাতে ধাক্কা না দিয়ে দূরে বসেছিলেন। তবে চেতন যাতে ঠিক সময়ে কেতনকে ধাক্কা দিতে পারে এবং ধাক্কা দেওয়ার সময় কেতন যাতে সিয়াকে টেনে না ফেলে দেয়, তার জন্য পুরো সুরক্ষা তারা আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিল। পুলিস জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়া মাটিতে বসে পড়বে এবং সেটাই হবে চেতনের কাছে ‘গ্রিন সিগন্যাল’। এরপর চেতন এসে অসতর্ক কেতনকে খাদে ফেলে দেবে।
সিয়া হয় জল খাওয়ার ছলে অথবা জুতোর ফিতে বাঁধার নাম করে মাটিতে বসবে বলে ঠিক করেছিল। এই নির্দিষ্ট সিগন্যাল বেছে নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল- কেতন যখন ওপর থেকে পড়বে, তখন সে যেন সিয়াকে নাগালের মধ্যে না পায়। তাদের ভয় ছিল, চেতন ধাক্কা দিলে কেতন যদি সিয়াকে জড়িয়ে ধরে, তবে সিয়াও খাদে পড়ে যেতে পারে। তাই সিয়ার নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই ছক কষা হয়েছিল।
এদিকে চেতন ১৮ জুন পুণে থেকে লোহগড় দুর্গ পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার রাস্তা গাড়ির বদলে স্কুটারে চেপে আসে। টোল প্লাজায় ধরা পড়ার ভয়ে সে গাড়ি ব্যবহার করেনি বলে জানিয়েছে পুলিস। স্কুটারটি ইতোমধ্যেই পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে।
সিয়া ও চেতনের ‘সিক্রেট কল’
খুনের মাত্র ৩৪ মিনিট আগে সিয়া চেতনকে ফোন করেছিল। সোর্স ও কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) ঘেঁটে এই তথ্য সামনে এসেছে, যা খুনের চূড়ান্ত নির্দেশ হিসেবে দেখছে পুলিস। মোবাইলের সমস্ত ইন-ডেপথ ফরেনসিক পরীক্ষার পরই এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হাতে আসে। পুণে রুরাল পুলিসের টেকনিক্যাল সার্ভেল্যান্স টিম এই ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার করে। পুলিসের ধারণা, ওই শেষ কলের মাধ্যমে সিয়া দুর্গটিতে তাঁর একদম সঠিক লোকেশন চেতনকে জানিয়েছিল এবং আশেপাশে কোনো পর্যটক নেই তা কনফার্ম করেছিল।
পুলিসের অনুমান, ধরা পড়ার ভয়ে অভিযুক্তরা বিগত তিন মাসের সমস্ত চ্যাট এবং ভয়েস নোট ডিলিট করে দিয়েছিল। বর্তমানে সাইবার উইং এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তার সেই ডিলিট করা হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম চ্যাট উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ ধারায় এই খুনের মামলাটিকে সাজানো অপরাধ (pre-planned murder) হিসেবে আদালতে প্রমাণ করতে উদ্ধার হওয়া ডেটা, লোকেশন লগ এবং ইন্টারনেট আইপি অ্যাড্রেস ক্রস-রেফারেন্স করা হচ্ছে।
খুনের প্রথম ব্যর্থ চেষ্টা ও সাপের গল্প
পুলিসের দাবি, নভেম্বর মাসে বিয়ে এড়াতেই সিয়া তাঁর বাগদত্তা কেতনকে লোহগড় দুর্গে ফেলে খুন করে। কীভাবে কেতনকে তারা খুন করবে, সব প্ল্যান তারা মে মাসের শেষেই ঠিক করে ফেলেছিল। গত ১৪ জুন সিয়া কেতনকে পাহাড়ের ওপর থেকে ফেলে দেওয়ার প্রথম চেষ্টা করেছিল। সে যাত্রায় কেতন একটি ঝোপ আঁকড়ে ধরে নিজেকে কোনোমতে বাঁচিয়ে নেন। ওই ঘটনার পর সিয়া বাড়িতে এসে একটি সাপের গল্প ফেঁদেছিল এবং দাবি করেছিল যে, সাপের ভয়ে তাড়াহুড়োয় কেতন পা পিছলে পড়ে যাচ্ছিলেন আর সে বাঁচাতে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৮ জুন দ্বিতীয় দফায় চেতনকে দুর্গটিতে লুকিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে কেতন কোনোভাবেই বেঁচে ফিরে আসতে না পারে।
সিয়ার ভাই পুলিসকে জানিয়েছেন, ক্রিকেট ম্যাচ খেলার সময় প্রথম চেতনের সঙ্গে সিয়ার পরিচয় হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনো এক কমন ফ্রেন্ডের মাধ্যমে তাঁদের যোগাযোগ বাড়ে এবং তাঁরা একে অপরের কাছাকাছি আসেন।
(Feed Source: zeenews.com)
