)
Father-Son Pulled from Rubble of Venezuela: বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু ভেনেজুয়েলায় ম্যাজিক ঘটে গেল। ৯৬ ঘণ্টা পরেও ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে প্রাণের সন্ধান মিলল!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানার চার দিন পরে বিধ্বস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে রবিবার এক ব্যক্তি ও তাঁর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনা ওই এলাকায় নিয়োজিত ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকর্মীদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। এই দুই দেশের উদ্ধারকর্মীরা আরও জীবিত মানুষকে খুঁজে বের করতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন।
ধ্বংসস্তূপে বাবা-ছেলে
ভেনেজুয়েলার লা গুইরা শহরের ধ্বংসস্তূপে ভরা সড়ক দিয়ে উদ্ধারকর্মীরা কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে ওই দুজনকে নিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। গাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাবা-ছেলে দুজনকেই বেশ দুর্বল দেখাচ্ছিল। তাঁদের মুখে মাস্ক পরা ছিল। প্রসঙ্গত, সারা বিশ্ব জানে, গত বুধবারের ভূমিকম্পে এই উপকূলীয় রাজ্যটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিপর্যয়ে প্রায় ১৫০০ জন নিহত হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ।
সার্চিং টিম
উদ্ধারকারী দলগুলির অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এসব দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বিশেষ সার্চ ক্যামেরা ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালান এবং আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছতে পারেন।
উদ্ধারকাজ
এই বাবা-ছেলের সম্বন্ধে জানা গিয়েছে, চার দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা যে কোনো মানুষের মতোই অবস্থা তাঁরা। দুজনেই অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এঁদের শরীরের জলশূন্যতা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এঁদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার আগেই উদ্ধারকারীরা স্যালাইনের (আইভি ড্রিপ) ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। বিভিন্ন জরুরি ওষুধপত্র দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টাও করা হচ্ছে। রেসকিউ টিমের মার্কিন উদ্ধারকর্মীরা আগের দিনই এক মা ও তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছিল।
৩৩ জন
সপ্তাহের শেষ দিনগুলিতে ধ্বংসস্তূপের নরক থেকে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে জীবিত ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়ার সময় ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে! কোথায় গিয়ে থামবে মৃতের মোট সংখ্যা? এখনই তো প্রায় ১৫০০ মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
ভয়ংকর
ভারতীয় সময়ে বৃহস্পতিবার সকালে ভয়ংকর ভূমিকম্প কেঁপে উঠেছিল গোটা ভেনেজুয়েলা। মাত্র ৩৯ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল একের পর এক শহর। রিখটার স্কেলে একটি কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.২ এবং অন্যটির মাত্রা ৭.৫। পাশাপাশি ছিল ২০টি আফটার শক। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা USGS বলেছিল, ওই ভূমিকম্পে ১০০০০-এর বেশি মানুষের মারা যাওয়ার আশঙ্কা ৪৪% আর ১ লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০%! দেখা যাচ্ছে, সেই আশঙ্কাই ক্রমশ সত্যি হচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের চার দিন পরেও ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের খোঁজে চলছে মরিয়া উদ্ধার অভিযান। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৫০! নিখোঁজ রয়েছেন ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকারীরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য হল, এর পরেও জীবিত মানুষ উদ্ধার হয়েছেন! এদিকে শনিবার ৪.৮ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে এখানে। তবে এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি।
(Feed Source: zeenews.com)
