
সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে তিন তিনটি বিল। এর মধ্যে যে বিলটি সব মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে, তা হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিল। এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিলে, বিয়ে ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একাধিক সংস্থান রয়েছে। আগেই উত্তরাখণ্ড, গুজরাত, অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়ে গেছে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পথে বিজেপি সরকার। বর্তমানে মুসলিম, খ্রিস্টান, দুই সম্প্রদায়েরই বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আলাদা আইন আছে। UCC চালু হলে, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষই একই আইনের আওতায় আসবেন।
‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে, হিনদু-মুসলিম-খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষই চলে আসবে এক আইনের আওতায়। বিধানসভা ভোটের আগে এরাজ্যে ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ চালুর কথা শোনা গেছিল প্রধানমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে। জঙ্গিপুর-এর জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ”বিজেপির সংকল্প পশ্চিমবঙ্গে UCC লাগু করে তোষণের রাজনীতি চিরদিনের মতো শেষ করা।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ” ৬ মাসের মধ্যে বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করে সব নাগরিকের জন্য এক আইন সুনিশ্চিত করব। ভারতের সব ধর্মের নাগরিকের জন্য সমান আইন হোক, সেটা তোষণ? নাকি কোনও নাগরিক চারটে বিয়ে করতে পারবে আর কোনও নাগরিক একটা বিয়ে করতে পারবে, সেটা তোষণ?” বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সংকল্প পত্রের ১০ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ ছিল – অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বাস্তবায়নের জন্য় আইন প্রণয়ন করা হবে। সেই মতই কাজ শুরু করে দিল বাংলার বিজেপি সরকার।
দেশের মধ্যে উত্তরাখণ্ডে প্রথম অভিন্ন দেওয়ানি চালু হয়। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয় উত্তরাখণ্ডে। এরপর গুজরাত এবং অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়। গোয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আদলে গোয়া সিভিল কোড চালু রয়েছে। এই বিল নিয়ে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ” হিন্দুদের জন্য এক নিয়ম, শিখদের জন্য আলাদা নিয়ম, মুসলমানদের জন্য আলাদা নিয়ম, এমন তো হতে পারে না। আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা ভারতীয়, তাই এই বিল আনা খুব দরকার।”
