)
Ketan Agaewal murder case: বিলাসবহুল ও রোমাঞ্চকর বালি ট্রিপে প্রি ওয়েডিং ফটোশ্যুটে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মুম্বইয়ের রাস্তায় ওই ক্যাবের ভেতরে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখন তদন্তকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনেও বাড়ছে কৌতুহল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তেজনা, রহস্য আর এক অদ্ভুত এক তাড়াহুড়ো– ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের (Bali) উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ঠিক কেমন ছিল সিয়া গোয়েল ও কেতন আগরওয়ালের শেষ মুহূর্তের গতিবিধি? সম্প্রতি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া সেই ক্যাব চালকের বয়ান সামনে আসতেই এই হাই-প্রোফাইল অন্তর্ধান বা যাত্রাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। চালকের দাবি, পুরো যাত্রা জুড়েই সিয়াকে একপ্রকার ‘জোর করে’ গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং তাঁদের দুজনের আচরণেই স্পষ্ট ছিল গভীর কোনও মানসিক চাপ।
বিলাসবহুল ও রোমাঞ্চকর বালি ট্রিপে প্রি ওয়েডিং ফটোশ্যুটে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মুম্বইয়ের রাস্তায় ওই ক্যাবের ভেতরে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখন তদন্তকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনেও বাড়ছে কৌতুহল।
ক্যাব চালকের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত গভীর রাতে। মুম্বইয়ের একটি অভিজাত এলাকা থেকে বিমানবন্দর যাওয়ার জন্য বুকিং করা হয়েছিল ক্যাবটি। কেতন আগরওয়াল এবং সিয়া গোয়েল যখন গাড়িতে ওঠেন, তখন থেকেই গাড়ির ভিতরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। চালক জানান, ‘গাড়িতে ওঠার সময় থেকেই সিয়ার চোখে-মুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ ছিল। তিনি যেন কিছুতেই ওই গাড়িতে বা এই সফরে যেতে চাইছিলেন না। কিন্তু কেতন তাঁকে প্রায় জোর করেই টেনে ক্যাবের ভেতরে বসান।’
যাত্রাপথ জুড়ে গাড়ির পিছনের সিটে চলা কথপোকথনের বিবরণ দিয়ে চালক আরও জানান যে, সিয়া বারবার গাড়ি থামাতে বলছিলেন এবং তাঁর বাড়িতে বা পরিচিত কাউকে ফোন করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কেতন প্রতিবারই তাঁর ফোন কেড়ে নিচ্ছিলেন এবং অত্যন্ত উত্তেজিত ভাবে কথা বলছিনেন। সিয়াকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিচ্ছিলেন।
মুম্বই ট্রাফিকের মধ্যে দিয়ে বিমানবন্দর যাওয়ার পুরোটা সময় কেতন ক্রমাগত চালককে দ্রুত গাড়ি চালানোর জন্য তাগিদ দিচ্ছিলেন। যেন কোনও এক অদৃশ্য হাত তাঁদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। চালকের কথায়, ‘আমি যখনই আয়না দিয়ে পেছনের দিকে তাকাচ্ছিলাম, দেখছিলাম সিয়া জানলার বাইরে তাকিয়ে কাঁদছেন। কিন্তু তিনি চিৎকার করে কারও সাহায্য চাইছিলেন না, আমার কাছে পুরো ব্যাপারটাই রহস্যময় লাগছিল। কেতন তাঁর হাত শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছিলেন।’
ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (CSMIA) পৌঁছানোর পর তড়িঘড়ি করে নিজেদের লাগেজ নামিয়ে আন্তর্জাতিক টার্মিনালের দিকে হেঁটে যান তাঁরা। ক্যাব চালকের দাবি, গাড়ি থেকে নামার সময় সিয়া তাঁর দিকে এক মুহূর্তের জন্য তাকিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত আর্তি। কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি আর নিজে থেকে হস্তক্ষেপ করেননি।
তদন্তের নতুন মোড়
ক্যাব চালকের এই চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি সামনে আসার পর তদন্তকারী আধিকারিকরা বিমানবন্দরের ভেতরের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। তাঁরা বালি দ্বীপে যাওয়ার ওই নির্দিষ্ট ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস এবং ইমিগ্রেশনের নথিপত্রও পরীক্ষা করছেন।
এটি কি স্রেফ প্রেমিক-প্রেমিকার সাধারণ কোনও বিবাদ ছিল, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনও বড় ধরণের জোরজুলুম বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র—তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। বালি ট্রিপের রঙিন স্বপ্নের আড়ালে মুম্বই বিমানবন্দরে যাওয়ার এই ‘জোর জবরদস্তির’ সফরনামা এখন এই পুরো ঘটনার মূল রহস্যের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
