)
Pakistan Afganistan conflict: মাঝরাতে পাকিস্তানের ভয়ংকর হামলা। একবার বোমা ফেলার পর আবার কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে পাক যুদ্ধবিমান। দু’দফায় বোমা হামলায় মুহূর্তে একের পর এক লাশের স্তূপ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: একদিকে যখন পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব চাইছে। ঠিক তখনই অন্যদিকে তাদের নিজেদের দেশেই চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। আফগানিস্তান সীমান্তে পাক সেনা ভয়ংকর বিমান হামলা। অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, নিহতরা সবাই সন্ত্রাসী। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের দাবি, নিহত ও আহতদের মধ্যে অনেক সাধারণ মহিলা ও শিশু রয়েছেন। কাবুলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তাদের দেশে আর কোনো সন্ত্রাসী লুকিয়ে নেই।
কখন, কীভাবে হামলা চালায় পাকিস্তান?
রবিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আফগানিস্তানের তিনটি এলাকায় বোমা হামলা চালায় পাক যুদ্ধবিমান। ঠিক তার ২৫ মিনিট পর, অর্থাৎ রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে বিমানগুলো আবার ফিরে আসে। প্রথম হামলায় ভেঙে পড়া ঘরবাড়ির নীচে আটকে পড়া মানুষদের বাঁচাতে যখন সাধারণ মানুষ জড়ো হন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় দফায় আবার বোমা ফেলে পাকিস্তান। এই দ্বিতীয় হামলার কারণেই মৃতের সংখ্যা দ্রুত ৩৫ ছাড়িয়ে যায় এবং হাসপাতালে শতাধিক আহত মানুষের ভিড় জমে যায়।
পাকিস্তানের কী দাবি?
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীর দাবি, খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং করাচিতে পরপর সন্ত্রাসী হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। সম্প্রতি করাচিতে একটি হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হন। পাকিস্তানের দাবি, তারা জামায়াত-উল-আহরার এবং টিটিপি (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান)-এর গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
কী বলছে আফগানিস্তান?
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই হামলাকে ‘কাপুরুষতার চূড়ান্ত পরিচয়’ ও ‘বর্বরতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, হামলায় চার থেকে নয় বছরের শিশু ও বয়স্ক মানুষ-সহ ৩৫ জনের বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।
হাসপাতালের ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা শিশু ও বয়স্কদের শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি পাকিস্তানের দাবি নাকচ করে বলেন, ‘বোমা পড়ার জায়গায় কোনো জঙ্গি ছিল না। নিজেদের পাপ ঢাকতে পাকিস্তান বিশ্বের দরবারে মিথ্যে রটাচ্ছে।’
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রতিবেশীর বাড়ি ভেঙে পড়ার পর তারা উদ্ধার করতে ছুটে যান। কিন্তু উদ্ধারকর্মীদের ওপরই পাকিস্তান আরও একটি বোমা ফেলে। চোখের সামনেই বহু মানুষ মারা যান।
গৃহযুদ্ধে জ্বলছে পাকিস্তান
কিছুদিন আগেই করাচিতে সেনাদের সদর দফতরে জঙ্গি হামলায় তিন সেনা নিহত হন। পরে তিন হামলাকারীও মারা যায়। পাকিস্তানের দাবি, ধরা পড়া হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক। এই হামলার জন্য পাকিস্তান ভারতকে দায়ী করার চেষ্টা করলেও, দিল্লি তা স্পষ্ট অস্বীকার করেছে।
এর পাশাপাশি বালুচিস্তানের অধিকারকর্মী মাহরং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করে আসছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর চেপে ধরতেই এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
