Government School: বই-খাতার সঙ্গে থাকছে কার্বলিক অ্যাসিডও, ছেলেমেয়ে স্কুলে গেলে বুক ঢিপঢিপ করছে অভিভাবকদের! অবস্থা দেখে শিউড়ে উঠবেন

Government School: বই-খাতার সঙ্গে থাকছে কার্বলিক অ্যাসিডও, ছেলেমেয়ে স্কুলে গেলে বুক ঢিপঢিপ করছে অভিভাবকদের! অবস্থা দেখে শিউড়ে উঠবেন

Government School: পাঁচলার দেউলপুর গ্রামের ২০৮ নম্বর শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটির বেহাল দশা। স্কুলটি স্থানীয় হাসপাতাল চত্বরে একটি ভগ্নপ্রায় বাড়ির মধ্যে চালানো হচ্ছে। স্কুল বাড়ির চারপাশ এবং যাওয়ার রাস্তা মারাত্মক বিষ গাছ পার্থেনিয়াম ও আগাছার জঙ্গলে ঘেরা। বর্ষার সময় সাপ ও বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বাড়ায় শিশুদের সুরক্ষায় স্কুলে কার্বলিক অ্যাসিড ও বিষ মজুত রাখতে হচ্ছে।ঘন আগাছায় ঢেকেছে শিক্ষা কেন্দ্রের চারপাশ

হাওড়া, রাকেশ মাইতি: হাসপাতাল চত্বরে বিষ গাছ পার্থেনিয়াম সাম্রাজ্যে চলছে শিশুদের শিক্ষাদান! প্রতিদিন এখানে প্রাণ ভয় শিশুদের। চতুর্দিক আগাছার জঙ্গল মাঝে ভগ্ন স্কুল বাড়ি। শিক্ষাগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছনোর রাস্তায় বিষ গাছের জঙ্গল। মাঝে মধ্যে পঞ্চায়েত থেকে পরিষ্কার হলেই বছরের অধিকাংশ সময় আগাছার জঙ্গলে ঘেরা থাকে এই শিক্ষা কেন্দ্র। ফলে সাপ পোকা-মাকড়ের সংস্পর্শে এসে বিপদ ঘটার আশঙ্কা প্রবল থাকে। স্কুলের মাথার ওপর ছাদও নিরাপদ নয়, যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।

বর্ষায় আগাছা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে স্কুল। তাই শিশুদের শিক্ষাকেন্দ্রে পাঠাতে অনেক অভিভাবকই ভরসা হারিয়ে ফেলেন। পার্থেনিয়াম একপ্রকার বিষ গাছ। এই গাছের সংস্পর্শে এলে হাঁপানি, চুলকানি সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবু শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনের পর দিন চলছে পাঁচলার দেউলপুর গ্রামের ২০৮ নং শিশুশিক্ষা কেন্দ্র। সমস্যা সমাধানে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জানান হলেও মেলেনি সুরাহা অভিযোগ শিক্ষিকার।

তিনি আরও জানান, স্কুলের অ্যাজবেষ্টরের ছাদ ভাঙা। শৌচালয় রয়েছে, কিন্তু জল নেই। অথচ পাকা শৌচালয়ের ছাদে বসানো হয়েছে ট্যাংক। কল এবং পাইপলাইনও রয়েছে। কিন্তু জলের কোনও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি। ভাঙা রান্না ঘর, দূর থেকে নিয়ে স্কুলের রান্না হয়। স্কুলের মধ্যে অবাধে প্রবেশ করছে গরু-ছাগল। যেকোনও মুহূর্তে সাপ, বিছে বা বিষাক্ত পোকা মাকড় শিশুদের সংস্পর্শে আসতে পারে, ঘটতে পারে বিপদ।

তাই স্কুলে বই, খাতা, চাল, ডালের পাশাপাশি এক কোণে মজুত রাখতে হয় দানা বিষ, কার্বলিক অ্যাসিড এবং ব্লিচিং পাউডারের মত জিনিসও। এই বর্ষার সময়ে স্কুলের কাগজপত্র, প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা যায় না। এই সমস্যা প্রায় দুই দশকের বলে অভিযোগ। তবে রাজ্যে পালাবদল হতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় মানুষ অভিভাবক এবং শিক্ষিকারা। এ প্রসঙ্গে পাঁচলা বিজেপি প্রার্থী রঞ্জন পাল জানান, হাসপাতাল চত্বরে প্রতিদিন সুস্থ শিশুদের এভাবে প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। অতি শীঘ্রই হাসপাতাল চত্বরে চলা শিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করা হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।