)
ডিজিটাল মনিটাইজেশন ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম, ক্রিয়েটর ইকোনমি এবং পার্টনারশিপসের ‘চিফ সেলস অফিসার’ হিসেবে নিযুক্ত হলেন সুদীপ নাগপুরকর।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কনটেন্ট এবং টেকনোলজি জায়ান্ট, জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড তাদের ডিজিটাল মনিটাইজেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এক বড় ঘোষণা করেছে। সংস্থায় চিফ সেলস অফিসার—সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম, ক্রিয়েটর ইকোনমি ও পার্টনারশিপস পদে নিযুক্ত হয়েছেন সুদীপ নাগপুরকর। সংস্থার ডিজিটাল আয় বা রেভিনিউ মডেলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ বা কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষ জোর দিতেই এই নিয়োগ করা হয়েছে। সুদীপ নয়ডা থেকে তাঁর কাজ পরিচালনা করবেন এবং জি-এর অ্যাডভার্টাইজমেন্ট রেভিনিউ-এর চিফ অপারেটিং অফিসার (COO) সন্দীপ মেহরোত্রার অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন।
বর্তমান যুগে গ্রাহকদের কনটেন্ট দেখার এবং তা নিয়ে মেতে থাকার অভ্যাস দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। ব্র্যান্ডগুলো এখন এমন এক সমন্বিত ইকোসিস্টেমের সন্ধান করছে যেখানে কনটেন্ট, ক্রিয়েটর (কনটেন্ট নির্মাতা), কমিউনিটি এবং কমার্স—এই চারটির মেলবন্ধন ঘটে। এই পরিবর্তনকে মাথায় রেখেই ‘জি’ তাদের নিজস্ব কনটেন্ট ও প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম, ক্রিয়েটর নেটওয়ার্ক এবং উদীয়মান ডিজিটাল ক্ষেত্রগুলোতে আয়ের নতুন নতুন পথ তৈরি করতে ফোকাস করছে।
সুদীপ নাগপুরকরের ভূমিকা ও কাজের পরিধি
সুদীপ নাগপুরকর তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও গভীর শিল্পজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জি-এর ডিজিটাল সম্পদ থেকে আয় বাড়ানোর ক্ষমতাকে আরও উন্নত করবেন। তিনি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ক্রিয়েটর, ব্র্যান্ড এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করবেন, যাতে উদ্ভাবনী মনেটাইজেশন সলিউশন তৈরি করা যায় এবং কোম্পানির জন্য রাজস্ব বা রেভিনিউ-এর নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়। দ্রুত বর্ধনশীল ক্রিয়েটর ইকোনমিতে জি-এর উপস্থিতিকে আরও মজবুত করতে তিনি বিভিন্ন কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
এই নিয়োগ প্রসঙ্গে জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট রেভিনিউ-এর সিওও সন্দীপ মেহরোত্রা বলেন, “আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ল্যান্ডস্কেপে কনটেন্ট, টেকনোলজি এবং কমার্সের একীভূতকরণ দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং উপার্জনের নতুন নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি ভবিষ্যৎমুখী রেভিনিউ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এবং ক্রিয়েটর ইকোনমির এই বিপুল সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে। জি-এর ডিজিটাল যাত্রার এই গতিশীল সময়ে আমি সুদীপকে স্বাগত জানাতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ তৈরি এবং মনেটাইজেশন কৌশল বাস্তবায়নে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ডিজিটাল ক্ষেত্রে আমাদের ক্ষমতাকে আরও বাড়াবে।”
নতুন দায়িত্ব নিয়ে সুদীপের প্রতিক্রিয়া
নিজের নতুন ভূমিকা নিয়ে সুদীপ নাগপুরকর জানান, “ক্রিয়েটর ইকোনমি এবং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে দর্শকেরা কীভাবে কনটেন্ট আবিষ্কার ও উপভোগ করছেন, তার সংজ্ঞাটাই বদলে দিয়েছে। এটি ব্র্যান্ডগুলোর জন্য অত্যন্ত বড় একটি সুযোগ, যার মাধ্যমে তারা অত্যন্ত খাঁটি ও প্রাসঙ্গিক উপায়ে সরাসরি গ্রাহকদের সাথে জুড়তে পারে। জি-এর এই ডিজিটাল রূপান্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে এই সংস্থায় যোগ দিতে পেরে আমি উৎসাহিত। আমি আগামীদিনে ক্রিয়েটর, প্ল্যাটফর্ম, বিজ্ঞাপনদাতা এবং পার্টনারদের সাথে যৌথভাবে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি, যাতে নতুন মনেটাইজেশন মডেল এবং আয়ের উৎস তৈরি করে সব স্টেকহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভ্যালু ক্রিয়েট করা যায়।”
সুদীপের ১৬ বছরের বর্ণময় অভিজ্ঞতা
কনজিউমার টেকনোলজি, বিটুবি স্যাস (B2B SaaS), রিটেল এবং এফএমসিজি (FMCG)-র মতো একাধিক ক্ষেত্রে সুদীপের ১৬ বছরেরও বেশি সময়ের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কর্মজীবনে তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করার পাশাপাশি ভারতীয় ব্যবসাগুলোকে বিশ্বমঞ্চে রপ্তানি করতে সাহায্য করেছেন। জি-তে যোগ দেওয়ার আগে তিনি গুগল ইন্ডিয়া (Google India)-র ‘হেড অব ইন্ডাস্ট্রি, এফএমসিজি’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন, যেখানে তিনি বড় বড় কনজিউমার কনগ্লোমারেট বা বহুজাতিক সংস্থাগুলোর মার্কেটিং ট্রান্সফরমেশনের দায়িত্ব সামলেছেন। এছাড়া তিনি ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্টস (এমার্সন)-এর সাথেও যুক্ত ছিলেন, যা তাঁকে কনসালটেটিভ সেলস এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে এক মজবুত ভিত তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এবং ক্রিয়েটর নেটওয়ার্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং ব্যবসার সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই জি এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
