)
Venezuela quake miracle: যেখানে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার পর বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে আসে, সেখানে দীর্ঘ ৮ দিন পর জীবিত উদ্ধার। কীভাবে সম্ভব হল এই অসাধ্য সাধন? অভিজ্ঞ দমকলকর্মী মারা পাজ ক্যাম্পোস অভিযানের পুরো সময় জিল ফ্লোরেন্সের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে মানসিকভাবে শান্ত রাখেন। তাঁর মনোবল ধরে রাখেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ধ্বংসস্তূপে অলৌকিক! ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের আড়াই হাজার মৃত্যু, লাশের সারির মধ্যেই অলৌকিক প্রাণস্পন্দন। ভূমিকম্পের ৮ দিন পর লা গুয়াইরা প্রদেশে একটি শপিং সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হার্নান আলবার্তো জিল ফ্লোরেস (৪৩) নামে এক নিরাপত্তা কর্মীকে।
প্রায় ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান। ১৪০ টন ওজনের কংক্রিটের ধ্বংস্তূপের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁকে। যাকে বলে মিরাক্যল! চারদিকে যেখানে ধ্বংসের প্রতিচ্ছবি, সেখানে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া। গত ২৪ জুন উত্তর ভেনেজুয়েলায় ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের জেরে ধসে পড়ে হাজার হাজার বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন। যার মধ্যে এই লা গুয়াইরা প্রদেশের বহুতল শপিং সেন্টারটি অন্যতম।
ভূমিকম্পের সময় ওই শপিং সেন্টারে নাইট ডিউটিতে ছিলেন ৪৩ বছর বয়সী নিরাপত্তা কর্মী হার্নান আলবার্তো জিল ফ্লোরেস। শপিং মলটি ধসে পড়ার পর তিনি প্রায় ১৪০ টন ওজনের কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন। এসব ক্ষেত্রে যেখানে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার পর বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে আসে, সেখানে দীর্ঘ ৮ দিন পর, তাঁকে জীবিত উদ্ধার করে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো।
শ্বাসরুদ্ধকর ১০০ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান
কোস্টারিকান রেড ক্রসের একটি দল প্রথম গত রবিবার ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রাণের অস্তিত্ব টের পায়। এরপরই শুরু হয় ১০০ ঘণ্টার ম্যারাথন উদ্ধার অভিযান। চিলির দমকল বাহিনীর আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিটের নেতৃত্বে এই উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, এল সালভাদর এবং ভেনেজুয়েলার উদ্ধারকারী দল।
অনবরত আফটারশক, ভারী বৃষ্টি ও ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছিল। তবে উদ্ধারকারী দল হাল ছাড়েনি। একটি বিশেষ টেলিস্কোপিক ক্যামেরা ব্যবহার করে তাঁরা জিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপর টানেল তৈরি করে তার মধ্যে দিয়ে তাঁকে জল ও তরল খাবার সরবরাহ করতে থাকে। চিলির রেসকিউ ইউনিটের অভিজ্ঞ দমকলকর্মী মারা পাজ ক্যাম্পোস অভিযানের পুরো সময় জিল ফ্লোরেন্সের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে মানসিকভাবে শান্ত রাখেন। তাঁর মনোবল ধরে রাখেন। আর তাতেই অসাধ্য সাধন হয়।
ধূলোমাখা শরীর, জিল ফ্লোরেসকে যখন স্ট্রেচারে করে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় বের করে আনা হয়, তখন উল্লাসে ফেটে পড়েন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। প্রসঙ্গত জোড়া ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫৯৫ জন।
(Feed Source: zeenews.com)
