)
China India New Corridor:প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং বেজিংয়ের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারেক চিন সফরে ছিলেন। আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দুই নেতা যৌথভাবে চিন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতসীমান্তে নতুন করিডর তৈরির পরিকল্পনা চিনের। গত ২৬ জুন সকালে চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং বেজিংয়ের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারেক চিন সফরে ছিলেন। আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দুই নেতা যৌথভাবে চিন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
প্রকল্পটি চিন-মায়ানমার-বাংলাদেশ ইকনমিক করিডর (CMBEC) নামে পরিচিত। এর রুটটি চিনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে যুক্ত করার জন্য তৈরি হয়েছে। এই করিডরের মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং বহুমুখী পরিবহণ ব্যবস্থার প্রসার।
ভারত-বাংলাদেশ-চিন
দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু মাঝখান থেকে বাংলাদেশ যেন নতুন ঘুঁটি হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ বর্তমানে তাদের অন্যতম প্রধান ঋণদাতা বেজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও তারা স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখে, এখনও রাখছে। এবং যথারীতি ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, চিনের কাছে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ৬.২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে নয়াদিল্লির কাছে তাদের ঋণ মাত্র ১.৬ বিলিয়ন ডলার।
ভারতের উদ্বেগ কোথায়?
চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডর (CPEC) নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মূল কেন্দ্রবিন্দু সার্বভৌমিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগতভাবে অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা। ভারত কেন এই করিডরটির বিরোধিতা করছে, তার কতগুলি প্রধান কারণ আছে:
সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন
ভারতের প্রধান আপত্তি CPEC ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের সেই অংশ দিয়ে গিয়েছে, যা বর্তমানে পাকিস্তানের বেআইনি দখলে রয়েছে। ভারত এটিকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করে এবং ধারাবাহিকভাবে এই প্রকল্পের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
কৌশলগতভাবে ঘিরে ফেলা
ক্রমশ এই আশঙ্কা বাড়ছে যে, ভারতকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার কৌশলগত ফায়দা লুটতেই এই করিডরটি তৈরি করা হচ্ছে। চিনকে গদর (Gwadar) বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে CPEC চিনা নৌবাহিনীকে সরাসরি আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা ভারতীয় জলসীমার কাছাকাছি পাকিস্তান-চিনের একটি শক্তিশালী নৌ-জোট তৈরি করছে।
সামরিক হুমকি
পরিকাঠামো এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার অজুহাতে এই অঞ্চলে চিনা সামরিক বাহিনীর (পিপলস লিবারেশন আর্মি) উপস্থিতি ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত দেখা দিলে এটি যৌথভাবে ‘টু-ফ্রন্ট’ বা দ্বিমুখী আক্রমণের রূপ নিতে পারে।
জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা
গদর বন্দরটি হরমুজ প্রণালীর খুব কাছে অবস্থিত, যা ভারতের তেল পরিবহণ ও বাণিজ্যের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ভারত এই বন্দরে চিনা উপস্থিতিকে তাদের জ্বালানি-নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য বিপদ হিসেবেই গণ্য করছে।
কাশ্মীরবিরোধের আন্তর্জাতিকীকরণ
ভারত উদ্বিগ্ন যে, এই অঞ্চলে চিন ও পাকিস্তানের স্বার্থ এক হয়ে যাওয়ার ফলে কাশ্মীর সমস্যাটি আন্তর্জাতিক রূপ নেবে, যা ভারত বরাবরই দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এসেছে।
বাংলাদেশের কী লাভ?
এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্প্রসারণের একটি মঞ্চ হতে চলেছে। এই করিডর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লেনদেন বাড়াতে সাহায্য করবে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরকে আধুনিকীকরণ করে আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্রে পরিণত করা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, চিনে ওষুধপত্র, চামড়াজাত পণ্য এবং তাজা ফলের মতো বিভিন্ন ধরনের পণ্য রফতানিতে সাহায্য করে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোও এর অন্যতম লক্ষ্য। এটি তিস্তা নদী সংস্কারের মতো বড় পরিকাঠামোগত কাজেও সহায়তা প্রদান করবে। এর পাশাপাশি, চিন বাংলাদেশকে এই আশ্বাসও দিয়েছে যে, তারা (চিন) রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করবে।
(Feed Source: zeenews.com)
