Kolkata
-Ritesh Ghosh
ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালনে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে বছরভর নানা মাত্রায় এই কর্মসূচি পালন করবে বিজেপি। এই জাতীয় উদযাপনের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষ আবহে আগামীকাল সোমবার অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ঝটিকা সফরে কলকাতায় আসছেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বাংলার এই অকুতোভয় জননেতার স্মৃতিবিজড়িত প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় প্রশাসনই। এই রাজ্যে প্রথমবার ৬ জুলাই দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা এই জন্মবার্ষিকী উদযাপনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কলকাতার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিউটাউনের ৪৮০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ইকোপার্ক। এবার এই পার্কের বুকেই মাথা তুলে দাঁড়াবে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এক প্রস্তাবিত ১২৫ ফুট উঁচু সুবিশাল মূর্তি। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই নতুন মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে।
এই ভাস্কর্য নির্মাণের খবর ইতিমধ্যেই পর্যটক এবং অনুগামীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। পার্কের ভিতরে এই বিশাল মূর্তি স্থাপনের প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও মাঠ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রাজপথের নিরাপত্তাসহ স্থানটি পরিদর্শন করেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার।
শনিবার এই পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হিডকো বা হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের এবং পূর্ত দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। নির্দিষ্ট কোন স্থানে মূর্তিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে এবং তার চারপাশে সুরক্ষার বলয় কেমন থাকবে, তা বিশদে পর্যালোচনা করা হয়েছে। পার্কের ভিতর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে বিমানবন্দরে পা রেখেই নিজের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শুরু করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর এই সফরের ব্যাপ্তি মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা হলেও, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্থান থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় থাকবে তাঁর উপস্থিতি।
পাঠকদের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের সময় সংক্রান্ত সম্পূর্ণ বিবরণী নিচে প্রদান করা হল।
| সময় | নির্ধারিত স্থান ও কর্মসূচি |
|---|---|
| দুপুর ৩:৫০ মিনিট | বিশেষ বিমানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ। |
| বিকেল ৪:০০ মিনিট | ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহ্যবাহী পৈতৃক ভিটেতে উপস্থিতি এবং মূর্তিতে মাল্যদান। |
| বিকেল ৪:৫০ মিনিট | নিউটাউনের ইকোপার্কে ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তির জমকালো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান। |
| বিকেল ৫:৩০ মিনিট | বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ১২৫তম জন্মবার্ষিকী স্মৃতিচারণ সভায় যোগদান ও বক্তব্য পেশ। |
| সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিট | বিশেষ বিমানে দিল্লির উদ্দেশ্যে কলকাতা বিদায়। |
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এই মেগা সফরকে ঘিরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, এমনকী সুদূর লাদাখে কর্মরত সাধারণ কর্মী, যাঁরা দলের মূল মতাদর্শ ও রাষ্ট্রপ্রেমের চেতনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের একটি দিন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আগমনকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
বিজেপির রাজ্য দফতরেও এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দলের তরফে পৃথক একাধিক রক্তদান শিবির, প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। মুরলীধর সেন লেনের রাজ্য কার্যালয়কে তেরঙা আলোয় সাজিয়ে তোলার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। দলের সমস্ত জেলা কার্যালয়েও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ড. মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে।
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিত্ব ও কর্মকাণ্ড আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের গঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। শিক্ষাবিদ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য এবং পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দেশের শিল্পনীতি নির্ধারণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কলকাতার বুকে তাঁর এই সুবিশাল ভাস্কর্য কেবলই একটি স্থাপত্য নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার এক প্রয়াস হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল।
নিউটাউনের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের স্মার্ট সিটিতে এই স্মারক নির্মাণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ভবানীপুরের পুরনো পৈতৃক বসতবাড়ির ঐতিহ্য এবং অন্যদিকে নিউটাউনের আধুনিক পরিকাঠামো— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গোটা সফরটি দেশের সংস্কৃতি ও প্রগতির এক সুন্দর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরবে।
সোমবার বিকেলের এই সংক্ষিপ্ত সফরে যাতে কোনও রকমের বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য ইকো পার্ক এবং বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিধাননগর কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলগুলির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করেছেন। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মহান অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত তিলোত্তমা কলকাতা।
(Feed Source: oneindia.com)
