Success Story: হাতে চারটি আঙুল সচল! তাতে কী? সব বাধা জয় করে ডেটা সায়েন্টিস্ট সালানপুরের অনন্যা, সার্থক নামও

Success Story: হাতে চারটি আঙুল সচল! তাতে কী? সব বাধা জয় করে ডেটা সায়েন্টিস্ট সালানপুরের অনন্যা, সার্থক নামও

 

Success Story: শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে IIT খড়গপুর থেকে ডিগ্রি, ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে নতুন পথচলা অনন্যার। এই গল্প সিনেমাকে হার মানাবে…

অনন্যা সিকদার, ডেটা সায়েন্টিস্ট

সালানপুর, রূপনারায়ণপুর, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনও স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না, সেই কথাই আবারও প্রমাণ করলেন সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের অনন্যা সিকদার। দু’হাতের দশটি আঙুলের মধ্যে মাত্র চারটি আঙুল সচল। ডান হাতে রেডিয়াস হাড়ই নেই, বাম হাতের বুড়ো আঙুলও অনুপস্থিত।

তবুও সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি আই আই টি খড়গপুর থেকে বি.টেক সম্পন্ন করে একটি নামী বহুজাতিক সংস্থায় ডেটা সায়েন্টিস্ট পদে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। আগামী ১৩ জুলাই তিনি নতুন কর্মজীবন শুরু করবেন। তাঁর এই অসাধারণ সাফল্যে গর্বিত রূপনারায়ণপুরের মানুষ।

রূপনারায়ণপুর দুর্গামন্দির এলাকার বাসিন্দা অনন্যার মা অনিমা সিকদার পেশায় আইসিডিএস কর্মী এবং বাবা জীবনবিমার এজেন্ট। জন্মের পরই চিকিৎসকেরা জানান, অনন্যা ‘রেডিয়াস ক্লাব হ্যান্ড ডিফর্মিটি’-তে আক্রান্ত। ডান হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত স্বাভাবিক বিকাশ হয়নি এবং রেডিয়াস হাড় অনুপস্থিত।

পাশাপাশি, বাম হাতের বুড়ো আঙুলও নেই। দীর্ঘদিনে ১৭ বার অস্ত্রোপচার হলেও বিশেষ সুফল মেলেনি। কিন্তু মা-মেয়ে কেউই হার মানেননি। বাম হাতের চারটি আঙুলের সাহায্যেই লেখাপড়া শুরু করে অনন্যা, আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের জোরে একের পর এক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করতে থাকেন।

স্কুলজীবন থেকেই মেধার পরিচয় দিয়েছেন অনন্যা। মাধ্যমিকের আগেই তিনি ডেটা সায়েন্টিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিকের পর প্রবেশিকা পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে Indian Institute of Technology Kharagpur-এর ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন বিভাগে বি.টেক কোর্সে ভর্তি হন। চূড়ান্ত বর্ষেই ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে একটি নামী বহুজাতিক সংস্থা তাঁকে ডেটা সায়েন্টিস্ট পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেয়। সেই স্বপ্নের চাকরিতেই আগামী ১৩ জুলাই যোগ দিতে চলেছেন তিনি।

অনন্যার কথায়, স্বামী বিবেকানন্দ-এর লেখা পড়েই তিনি জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, গান গাওয়া এবং দাবা খেলাই তাঁর প্রিয় শখ। আইআইটিতে অনুষ্ঠিত দাবা প্রতিযোগিতায় তিনি স্বর্ণপদকও অর্জন করেছেন। সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করে আজ অনন্যা সিকদার শুধু নিজের পরিবারের নয়, সমগ্র রূপনারায়ণপুর ও পশ্চিমবঙ্গের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।