)
Super Typhoon Bavi: ঝড়ের জেরে উপড়ে গেছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি, ফলে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। জারি হয়েছে আকস্মিক বন্যার লাল সতর্কতা। বছরের অন্যতম বিধ্বংসী ক্যাটাগরি-৫ সামুদ্রিক ঝড় সুপার টাইফুন ‘বাভি’।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে আছড়ে পড়ল বছরের অন্যতম ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক ঝড়, সুপার টাইফুন ‘বাভি’। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে একে সর্বোচ্চ স্তরের অর্থাৎ ‘ক্যাটাগরি-৫’ ঝড় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার সকালে গুয়ামের কাছে উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ‘রোটা’ নামের একটি ছোট্ট দ্বীপের ওপর দিয়ে এই অতি-শক্তিশালী সুপার টাইফুনের কেন্দ্র অতিক্রম করে। আমেরিকার আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই একে ‘জীবননাশী ও চরম বিপজ্জনক’ দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আবহাওয়াবিদ এডউইন মন্টভিলা জানিয়েছেন, ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। তবে মাঝেমধ্যে তা ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৪৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বা দমকা হিসেবে আছড়ে পড়ছিল। ঝড়ের দাপট এতটাই ছিল যে, সাইপান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার ছোঁয়ার পরেই সেখানকার উইন্ড-গেজ বিকল হয়ে যায়। গুয়াম, সাইপান, রোটা এবং তিনিয়ান দ্বীপে বর্তমানে লাল সতর্কতা এবং আকস্মিক বন্যার হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ঝড়টি থিতু হওয়ার আগে বিস্তীর্ণ এলাকায় অন্তত ২০ ইঞ্চি (৫১ সেমি) পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।
দ্বিগুণ বিপর্যয়ের মুখে দ্বীপপুঞ্জ
ঝড়ের প্রভাবে উপড়ে গিয়েছে শয়ে শয়ে গাছ, ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গুয়াম সহ একাধিক দ্বীপ। গুয়ামের গভর্নর লু লিওন গেরেরো সাধারণ মানুষকে বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করেছেন এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় একটাই, এই অঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়ি কংক্রিটের তৈরি হওয়ায় বড়সড় প্রাণহানির আশঙ্কা হয়তো এড়ানো যাবে।
প্রসঙ্গত, এই দ্বীপের বাসিন্দাদের কাছে এটা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। কারণ গত এপ্রিল মাসেই সুপার টাইফুন ‘সিনলাকু’র হাত ধরে এখানে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। সাইপান ও তিনিয়ানের বহু মানুষ গত তিন মাস ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। সেই ক্ষত শুকোনোর আগেই আবার হানা দিল ‘বাভি’। পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা লাগামহীনভাবে বাড়ার কারণেই এই ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলো এত দ্রুত দানবীয় রূপ ধারণ করছে।
(Feed Source: zeenews.com)
