)
Delhi Dowry Murder: মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেই আকৃতি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। পরিবার মানতেই নারাজ যে, তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে মেয়েকে যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় নববধূর রহস্যমৃত্যু। মৃত তরুণীর নাম আকৃতি সুতার (২৮)। গত শনিবার রাতে দিল্লির লোধি কলোনির পলিকা কুঞ্জ আবাসনের নীচে তাঁর দেহ পাওয়া যায়। বহুতল থেকে নীচে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে মৃতার পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো আত্মহত্যা নয়। তাঁদের দাবি, আকৃতিকে প্ল্যান করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। পুলিস ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আকৃতি পুষ্প বিহারের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ছতরপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আরাস্তু সিক্কা নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্ক ছিল। গত ২৪ এপ্রিল তাঁদের বিয়ে হয়। আরাস্তুর বোন অগস্তিকা সিক্কার সঙ্গে আকৃতির প্রথমে বন্ধুত্ব হয়। সেই সূত্রেই আরাস্তুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেম। আরাস্তু বর্তমানে বেকার। তাঁর বাবা একজন সরকারি কর্মচারী, তবে তিনি নিজের কাজের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতেন না।
বিয়ের পর ছুটির শেষে গত ১ জুলাই আকৃতি আবার অফিসে যোগ দেন। গত শনিবার তিনি অফিসে সহকর্মীদের জন্য একটি ছোট পার্টির আয়োজন করেছিলেন। সেদিন বিকেল ৬টা নাগাদ তিনি মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। তিনি জানান, অফিস শেষ করে তিনি বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছেন। তখন তাঁর কথাবার্তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এর ঠিক দু’ঘণ্টা পর, রাত ৮টা নাগাদ আকৃতির স্বামী আরাস্তু ফোন করে জানান যে আকৃতিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ পুলিস তাঁর পরিবারকে খবর দেয়। পুলিস জানায়, পলিকা কুঞ্জে এক মহিলার দেহ পাওয়া গিয়েছে।
আকৃতির বাড়ি এবং অফিস থেকে লোধি কলোনির দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। ওই বহুতল আবাসনটি মূলত ফাঁকা এবং পরিত্যক্ত। সেখানে আকৃতি কেন গিয়েছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা রাত ৯টা নাগাদ তাঁকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং পুলিসে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে কোনো রক্তের দাগ ছিল না। তবে আকৃতির শরীরে একাধিক আঘাত ও ক্ষতের চিহ্ন ছিল। তাঁকে দ্রুত এইমস (AIIMS) ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আকৃতির কাকা মনঞ্জয় সুতার এবং ২৪ বছর বয়সী ভাই অময় সুতার আত্মহত্যার তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আকৃতি মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্ত ছিলেন। তিনি কখনোই নিজের জীবন শেষ করতে পারেন না। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই আরাস্তু ও তাঁর পরিবার ২০ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবি করছিল। টাকা না দেওয়ায় আকৃতির ওপর লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হত। আরাস্তু এর আগে বহুবার আকৃতিকে খুনের হুমকিও দিয়েছিলেন। মৃত্যুর মাত্র দু’দিন আগেও তাঁদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ঘটনা অনেক বেড়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগেই ভোপালের ত্বিশা শর্মা এবং গ্রেটার নয়ডার দীপিকা নগরের মৃত্যু নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যেই দিল্লির এই ঘটনাটি ঘটল। দক্ষিণ দিল্লির সিনিয়র পুলিস অফিসার অনন্ত মিত্তল জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ১৯৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের জন্য মহকুমা শাসককে (SDM) জানানো হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, তারা ঘটনার সবকটি দিক খতিয়ে দেখছে। বর্তমানে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। সেই রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
