)
Trump and Netanyahu: চার মাস পর আয়োজিত এই শেষকৃত্যে লাখো মানুষ অংশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার ডাক দেয়। লাল পতাকা ও স্লোগানে পুরো এলাকা প্রতিশোধের আবহে রূপ নেয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেইনির শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে লাখ লাখ মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার ডাক দিয়েছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই শোকসভা ঘিরে পুরো এলাকায় পোস্টার, গ্রাফিটি এবং স্লোগানে প্রতিশোধের আবহ তৈরি হয়। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খামেইনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রথম দিনেই তারা নিহত হয়েছিলেন।
রবিবারের এই সভায় শোকের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা। সমবেত জনতা ইরানের জাতীয় পতাকা এবং প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা হাতে নিয়ে “আমেরিকা ধ্বংস হোক”, “ইসরায়েল ধ্বংস হোক” বলে স্লোগান দেয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও কবি মোহাম্মদ রাসুলি লাউডস্পিকারে বলেন, “খামেইনির রক্তের কসম, ট্রাম্পকে হত্যা করা এখন আমাদের দায়িত্ব।” গোলামরেজা সাবুনি নামের এক সাধারণ দোকানিও জানান, তারা তাদের নেতার হত্যার বদলে ট্রাম্পকে হত্যা করতে চান। অন্যদিকে, আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি এক এক্সে লেখেবন, “আপনারা খামেইনিকে হত্যা করে আসলে একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন, যার সুবাস এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।”
এই শোকসভার বড় বৈশিষ্ট্য ছিল ইসরায়েলি হামলা ও হুমকির মুখে আত্মগোপনে থাকা ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের জনসমক্ষে প্রত্যাবর্তন। নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেইনির ভাইয়েরা—মাসুদ, মেয়সাম এবং মোস্তফা ছাড়াও রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল আহমাদ ভাহিদি প্রথমবার প্রকাশ্যে আসেন। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ এবং কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি। তবে হামলায় আহত ও ইসরায়েলি হিটলিস্টে থাকা মোজতবা খামেইনি নিজে অনুপস্থিত ছিলেন।
৯৭ বছর বয়সী শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি এই শোকসভা পরিচালনা করেন। এদিন খামেইনির কফিনের পাশে তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদির ছোট কফিনটি সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। সোমবার তার কফিন তেহরানের রাস্তায় ঘোরানো হবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফন করা হবে। যুদ্ধের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এই শেষকৃত্যকে একটি শক্তির মহড়া ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান প্রশাসন।
(Feed Source: zeenews.com)
