পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি প্রশান্ত (৩৫) বিদেশে কর্মরত ছিলেন৷ ঘটনাটি সামনে আসে যখন প্রশান্তর মা থানায় অভিযোগ জানান তাঁর ছেলেরে মৃত্যু সম্পর্কে৷ গত ৩০ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ১ জুলাই প্রশান্তর মায়ের অভিযোগ, ছেলের দেশে ফেরার বিষয়টি পর্যন্ত তাঁকে জানান হয়নি। ছেলের মৃত্যু রহস্যজনক বলে দাবি করে তিনি পুত্রবধূ সন্ধ্যার বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত সন্ধ্যার সঙ্গে অনিল নামে এক ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রশান্ত। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন সন্ধ্যা ও অনিল। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা ভেঙ্কট সাই-এর সাহায্য নেন।
কীভাবে খুন?পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ জুন ভেঙ্কট সাই প্রশান্তকে বাড়িতে প্রচুর মদ্যপান করান। এরপর বাড়ির ছাদে নিয়ে গিয়ে ফোনে সন্ধ্যার নির্দেশে তাঁকে নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।
জানা যায়, ছাদ থেকে পড়ে প্রশান্ত গুরুতর আহত হলেও মারা যাননি। এরপর অভিযুক্ত সন্ধ্যা ও ভেঙ্কট সাই তাঁকে প্রথমে একটি সরকারি হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে আবার তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, এরপর প্রেমিক অনিলের উৎসাহে সন্ধ্যা চিকিৎসার জন্য লাগানো ক্যানুলার মাধ্যমে প্রশান্তর শরীরে টয়লেট ক্লিনার ও অ্যানাস্থেশিয়ার ওষুধ প্রবেশ করান। শুধু তাই নয়, তাঁকে খাট থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এর পরেই প্রশান্তর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তরা স্বেচ্ছায় অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তিনজনকেই গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।