
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চিন সেন্ট্রাল টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় শহর নানজিংয়ের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রাক্তন ভাইস ডিরেক্টর ইয়াং ইউলিন ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই ঘুষ নিয়েছিলেন। জিয়াংসু প্রদেশের চাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্টের প্রক্রিয়া অনুয়ায়ী সিসিটিভি জানিয়েছে, ঘুষ ছাড়াও ইয়াং অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ইয়াংয়ের অপরাধগুলি “অত্যন্ত গুরুতর” এবং এর ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চিনে অর্থনৈতিক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড সচরাচর দেখা যায় না। তবে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট শি-র দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ‘চায়না হুয়ারং ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস লিমিটেড’-এর দু’জন প্রাক্তন কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
সর্বশেষ এই পদক্ষেপে প্রেসিডেন্ট শি-র শাসনামলে কর্তৃপক্ষ আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি পদের অপব্যবহার—উভয় বিষয়কেই টার্গেটে রেখেছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে শি নিজের সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পরপরই এই রায়টি সামনে এল।
গত সপ্তাহে চিন কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে শি তাঁর বিশেষ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ওপর জোর দিয়েছিলেন। এই অভিযানের জেরে নজিরবিহীন সংখ্যক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালিত হয়েছে। চিনের প্রেসিডেন্ট বলেন যে, কমিউনিস্ট পার্টি তার ‘স্বাস্থ্যকে ক্ষুণ্ণকারী সব ভাইরাস নির্মূল’ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এর মধ্য দিয়ে দল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতর থেকে দুর্নীতি সমূলে উৎপাটনের বিষয়ে নেতৃত্বের অব্যাহত মনোযোগের বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শি-র অন্যতম প্রতিশ্রুতি দেওয়া নীতি। যে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় প্রশাসন দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়াং ইউলিনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দুর্নীতি মামলায় আরোপিত অন্যতম কঠোর শাস্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। যা এমন সব অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানকেই প্রতিফলিত করে—যেসব অপরাধ জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে বলে সরকার মনে করে।
