)
Bodies Lie Unclaimed and Rats Run Rampant: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে খবর। তবে গাজার স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেরই আক্ষেপ, তাঁরা এমন এক মার্কিন-সমর্থিত সমঝোতার ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বাস করছেন যাতে তারা এই চুক্তিকে ব্যর্থই মনে করেন!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে খবর। তবে গাজার স্থানীয় বাসিন্দাদের মত আলাদা! তাঁদের অনেকেরই আক্ষেপ, তাঁরা এমন এক মার্কিন-সমর্থিত সমঝোতার ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বাস করছেন, যেটিকে তাঁরা আরেকটি ব্যর্থ ও অকার্যকর চুক্তি ছাড়া আর কিছু মনে করতে পারছেন না! যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েল বিদেশি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে গাজায় প্রবেশ করে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সুযোগই দেয়নি। কেন দেয়নি? তবে কি পরিস্থিতি ক্রমশ আরও খারাপ হচ্ছে?
যুদ্ধবিরতি ও শর্ত লঙ্ঘন
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলার পর একই দিন থেকে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। টানা দুই বছর ধরে বোমা হামলা ও অবরোধ চলার পর গত বছর ইসরায়েল ও হামাস দুই ধাপের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছয়। তবে সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ শুরু থেকেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। চুক্তিতে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং নতুন একটি প্যালেস্টাইনি শাসনব্যবস্থা গঠনের কথা থাকলেও ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।
চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ
গাজার চিরচেনা দৃশ্যগুলো এখন আর নেই। গাজা যেন আর সেই গাজা নয়। একসময় যেখানে নীল সমুদ্রের সঙ্গে দিগন্ত মিশে যেত, আজ সেখানে চোখে পড়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া কৃষিজমি, ছাই হয়ে যাওয়া ফলের বাগান আর ধ্বংসস্তূপের পাহাড়। যুদ্ধ শুধু ঘরবাড়িই ভাঙেনি, বদলে দিয়েছে পুরো মানচিত্রই।
বাতাস নেই, সংক্রমণ
রাষ্ট্রসংঘের তথ্য বলছে, গাজায় ১৯ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাঁদের অনেককে একাধিকবার আশ্রয়স্থল বদলাতেও হয়েছে। যুদ্ধবিরতির কয়েকমাস পরেও বহু মানুষ এমন অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন, যেখানে বাতাস চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারীদের ত্বকে র্যাশ এবং পরজীবী সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে মে মাসের শেষ দিকেই সতর্ক করেছিল রাষ্ট্রসংঘ। জানা গিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাসের ৮০ শতাংশেরও বেশি এলাকায় এ ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। শৌচাগারের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় অনেক বাসিন্দা বাধ্য হয়ে অস্থায়ী পায়খানার গর্ত খুঁড়ছেন। এর ফলে মাটি ও জলের উৎস দূষিত হয়ে পড়ছে।
ঘুমন্ত শিশুদের কামড়াচ্ছে ইঁদুর, বেজি
পাশাপাশি ইঁদুর, আরশোলা ও বেজির উপদ্রবও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইঁদুর ও বেজি সহজেই তাঁবুর কাপড় ছিঁড়ে ভেতরে ঢুকে পড়ছে এবং ঘুমন্ত শিশু, এমনকি নবজাতকদেরও কামড়ে দিচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এইসব প্রাণী সরাসরি মানুষজনের উপর আক্রমণও করছে। ইঁদুরের উৎপাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা ত্রাণসামগ্রীর প্যাকেটও কেটে ফেলছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে অল্প যে চাল বা আটা মজুত ছিল, তা ফেলে দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার খাবার বাঁচাতে তাঁবুর ছাদ থেকে খাবারের পাত্র ঝুলিয়ে রাখছেন, যেন তা ইঁদুরের নাগালের বাইরে থাকে।
(Feed Source: zeenews.com)
