North 24 Parganas News: বাবা লোকনাথের ছায়াসঙ্গী বেণীমাধব, কচুয়ার মাটির বাড়িতে আজও জীবন্ত ইতিহাস

North 24 Parganas News: বাবা লোকনাথের ছায়াসঙ্গী বেণীমাধব, কচুয়ার মাটির বাড়িতে আজও জীবন্ত ইতিহাস

 

 

North 24 Parganas News: লোকনাথ ব্রহ্মচারী ও বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সমবয়সী। মাত্র ১২ বছর বয়সে দু’জনেই আচার্য ভগবান গাঙ্গুলীর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর শুরু হয় তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনের পথচলা। কালীঘাট থেকে শুরু করে সাধনজীবনের দীর্ঘ পরিক্রমায় লোকনাথের ছায়াসঙ্গী হয়ে সর্বদা পাশে ছিলেন বেণীমাধব।

বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা, জুলফিকার মোল্যা: বাবা লোকনাথের ছায়াসঙ্গী বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায়, ইতিহাসের সাক্ষী কচুয়ার মাটির বাড়ি, পর্যটন কেন্দ্রের দাবিতে সরব স্থানীয়রা। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার কচুয়া ধামের নাম উচ্চারণ হলেই সবার আগে মনে পড়ে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর কথা। কিন্তু তার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন বাল্যবন্ধু বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায়। কচুয়া ধামের মূল প্রবেশদ্বারের ঠিক বিপরীত দিকে কিছুটা এগোলেই আজও দেখা যায় বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভিটা। টিনের ছাউনি দেওয়া সেই প্রাচীন মাটির বাড়ি আজও অতীতের ইতিহাস বহন করে চলেছে। বাড়ির সামনে থাকা সাইনবোর্ড যেন দর্শনার্থীদের জানিয়ে দেয়, এটাই সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত স্থান।

লোকনাথ ব্রহ্মচারী ও বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সমবয়সী। মাত্র ১২ বছর বয়সে দু’জনেই আচার্য ভগবান গাঙ্গুলীর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর শুরু হয় তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনের পথচলা। কালীঘাট থেকে শুরু করে সাধনজীবনের দীর্ঘ পরিক্রমায় লোকনাথের ছায়াসঙ্গী হয়ে সর্বদা পাশে ছিলেন বেণীমাধব। বাবা লোকনাথের জীবনকথায় তাই বেণীমাধবের নামও সমানভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির প্রাচীন রূপ আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। আধুনিক সংস্কারের বদলে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা বাড়িটির ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলেও কাঁচা মাটির বাড়ি খুব কম দেখা যায়। তাই এই বাড়িটি শুধু একটি স্মৃতিবিজড়িত স্থান নয়, বাংলার গ্রামীণ স্থাপত্যেরও এক মূল্যবান নিদর্শন।

বাড়ির সামনে রয়েছে একটি লাল স্মৃতিবেদি, যা লোকনাথ ও বেণীমাধবের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত হয়েছে। পাশেই একটি বড় পুকুর এবং তার ধারে শতবর্ষী অশ্বথ গাছ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই গাছের নিচেই ছোটবেলায় একসঙ্গে খেলাধুলা করতেন লোকনাথ ব্রহ্মচারী ও বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এই স্থান আজও ভক্ত ও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। প্রতিদিন কচুয়া ধামে বহু ভক্ত ও পর্যটক আসেন। তাদের অনেকেই লোকনাথ মন্দির দর্শনের পাশাপাশি বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভিটিও ঘুরে দেখেন। কলকাতা থেকে শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখার কাঁকড়া মির্জানগর স্টেশনে নেমে অটো বা টোটোয় মাত্র পাঁচ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই ঐতিহাসিক বাড়িতে। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই স্থান পর্যটনের আরও বড় সম্ভাবনা বহন করছে।

(Feed Source: news18.com)