মূলত আর্থিক অনিয়ম, বেআইনি পদ্ধতিতে টাকা তোলা এবং তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগেই তদন্ত শুরু করেছে ইডি৷
তৃণমূলের টাকায় কেনা হয় বিমান- হেলিকপ্টার?
শঙ্কর আনন্দ, নয়াদিল্লি: তৃণমূলের তহবিলের টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিল নতুন বিমান এবং হেলিকপ্টার? এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল ইডি তদন্তে৷ তৃণমূলের দলীয় তহবিল নিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নেমছে ইডি৷ মঙ্গলবার দেশের পাঁচটি জায়গায় তল্লাশিও চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ সেই তল্লাশি অভিযানেই উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য৷
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার তৃণমূলের তহবিল নিয়ে অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে বিমান পরিবহণ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজ-এর নামে থাকা পাঁচটি ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি৷
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েলকে ১৬০ কোটিপ্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কেয়ারওয়েল এবং তার সহযোগী সংস্থাকে সরাসরি প্রায় ১৬০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে৷ ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে এই লেনদেন হয়েছে৷
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কেয়ারওয়েল আবার তৃণমূলের থেকে পাওয়া এই টাকা থেকে ৮২.৯৬ কোটি টাকা নিজেদের অধীনস্ত নতুন একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে৷ এই লেনদেনও হয়েছিল ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে৷
তৃণমূলের টাকায় বিমান- হেলিকপ্টার!ইডি সূত্রে খবর, তদন্তে জানা গিয়েছে যে তৃণমূলের থেকে পাওয়া এই অর্থ দিয়ে একটি এমব্রেয়ার লেগাসি ৬০০ বিজনেস জেট বিমান এবং একটি অগুস্তা ১০৯ এসপি মডেলের হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল৷ এই বিমান এবং হেলিকপ্টার কিনতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১১২ কোটি টাকা৷ তদন্তকারীদের আরও দাবি, অগুস্তা হেলিকপ্টার কিনতে বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থেরও ব্যবহার হয়েছিল৷ তবে মূল খরচ করা হয়েছিল তৃণমূলের তহবিল থেকে পাওয়া টাকা থেকেই৷
তৃণমূলের টাকায় কেনা বিমান-হেলিকপ্টার তৃণমূলকেই লিজ!ইডি সূত্রে আরও দাবি করা হচ্ছে, কেনার পর এই বিমান এবং হেলিকপ্টার আবার লিজের ভিত্তিতে তৃণমূলকেই ভাড়া দেওয়া হয়েছিল৷ পরবর্তী সময়ে এই বিমান এবং হেলিকপ্টারগুলি চালানো এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় খরচও মেটানো হয় তৃণমূলের অ্যাকাউন্চ থেকেই৷
আর্থিক লেনদেনে সন্দেহ!
তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিক ভাবে এই বিমান এবং হেলিকপ্টার কিনতে যে পদ্ধতিতে লেনদেন করা হয়েছে তার পুরোটাই সন্দেহজনক৷ শুধু তাই নয়, এই লেনদেনের আসল উদ্দেশ্য এবং প্রকৃত লাভবান কে বা কারা, তাও আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে৷ এই সংক্রান্ত আরও তথ্য পেতে তদন্তে আরও গতি আনছে ইডি৷