বেঙ্গালুরুর ৮৫ বছরের এন.জি. কেসরির বাড়ির ৪০ বছরের চন্দনগাছ ঝড়ে ভেঙে পড়ার পর সরকারি নিয়মে বিক্রি করে মিলল প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা। দীর্ঘদিন গাছ সংরক্ষণের জন্য তাঁকে ‘স্যান্ডালউড শিরোমণি’ সম্মানও দিল কর্নাটক সরকার।
বেঙ্গালুরু: সাধারণত ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ ভেঙে পড়ার খবর মানেই ক্ষয়ক্ষতির ছবি। কিন্তু কর্নাটকের বেঙ্গালুরুর ৮৫ বছরের এন.জি. কেসরির জীবনে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির আঙিনায় প্রায় ৪০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি চন্দনগাছ ঝড়ে ভেঙে পড়তেই খুলে গেল ভাগ্যের দরজা। সেই গাছ বিক্রি করে তিনি পেলেন প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি যত্নে লালন ও সংরক্ষণ করার জন্য কর্নাটক সরকার তাঁকে ‘স্যান্ডালউড শিরোমণি’ সম্মানেও ভূষিত করেছে।
জানা গিয়েছে, প্রায় চার দশক আগে এন.জি. কেসরির বাড়ির উঠোনে স্বাভাবিকভাবেই একটি চন্দনের চারা গজিয়ে ওঠে। তিনি সেটিকে কেটে ফেলেননি। বরং বছরের পর বছর ধরে যত্ন নিয়ে বড় করে তোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি একটি বিশাল চন্দনগাছে পরিণত হয়। গাছের সুগন্ধ যেমন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, তেমনই কাঠ চোরদের নজরও পড়েছিল সেটির উপর।
চন্দনগাছকে রক্ষা করতে কেসরি গাছটির চারপাশে একটি শক্তপোক্ত লোহার খাঁচাও তৈরি করেছিলেন। সম্প্রতি জুন মাসে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে পাশের একটি বড় গাছ এসে ওই চন্দনগাছের উপর পড়ে। তাতেই ভেঙে পড়ে বহু বছরের সেই গাছ।
তবে গাছটি কেটে বিক্রি না করে সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বন দফতরকে বিষয়টি জানান। বন দফতরের অনুমতি পাওয়ার পর গাছটি মহীশূরের সরকারি চন্দন ডিপোতে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা করে দেখা যায়, গাছটির ওজন প্রায় এক টন।
পরে Karnataka Soaps and Detergents Limited (KSDL) সরকারি নিয়ম মেনে চন্দন কাঠটি কিনে নেয়। এর বিনিময়ে এন.জি. কেসরির হাতে আসে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা। শুধু আর্থিক লাভই নয়, দীর্ঘদিন ধরে চন্দনগাছের সুরক্ষা ও সংরক্ষণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কর্নাটক সরকার তাঁকে ‘স্যান্ডালউড শিরোমণি’ সম্মানে সম্মানিত করেছে। একটি গাছকে বছরের পর বছর যত্নে লালন করার ফল যে একদিন এমনভাবে ফিরে আসতে পারে, এন.জি. কেসরির এই ঘটনা সেই বিরল উদাহরণ হিসেবেই সামনে এসেছে।
(Feed Source: news18.com)