West Bengal Job Opportunity: একের পর এক খুলছে বন্ধ জুটমিল, ৭ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের পথে বড় পদক্ষেপ

West Bengal Job Opportunity: একের পর এক খুলছে বন্ধ জুটমিল, ৭ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের পথে বড় পদক্ষেপ

 

West Bengal Job Opportunity: বরানগর থেকে নৈহাটি, বন্ধ জুটমিল ফের চালুর উদ্যোগে শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি, উৎসবে মাতলেন শ্রমিকরা। পরিযায়ীরাও ফিরছেন রাজ্যে। কাজের সুযোগ বাড়ছে…

মিল খোলায় খুশি শ্রমিকরা

উত্তর ২৪ পরগনা, রুদ্র নারায়ণ রায়: খুলছে একের পর এক বন্ধ জুটমিল, স্বস্তির হাওয়া শিল্পাঞ্চলে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাজ্যের জুটশিল্পে ফের আশার আলো দেখছেন জেলার শ্রমিকেরা। রাজ্যের ১৮টি বন্ধ জুটমিল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে শ্রমমন্ত্রী তথা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উদ্যোগে একের পর এক মিল খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যেই বরানগর জুটমিল, জগদ্দল জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এমকো জুটমিল চালু হওয়ায় প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি নৈহাটি ও কাঁকিনাড়া জুটমিল চালুর ঘোষণায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে খুশিরও হাওয়া। মিল খোলার ঘোষণাকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে উৎসবের আবহ দেখা যায়। গেরুয়া আবির মেখে, লাড্ডু বিতরণ করে এবং বাজি ফাটিয়ে আনন্দ উদযাপন করেন তাঁরা। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর কাজে ফেরার সম্ভাবনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শ্রমিকরা।

তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে মিলের যন্ত্রাংশে একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটিয়ে মেনটেনেন্সের কাজ শেষ হলেই চালু হয়ে যাবে উৎপাদন। শ্রমিকরা জানান, এতদিন কর্মহীন থাকার ফলে তাঁদের সংসার ভেসে যাওয়ার মতো অবস্থা। কোনও রকমে দিনমজুরি মুঠের কাজ করে তার মধ্যে অনেকেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন আপ্রাণ। অনেকে আধপেটা খেয়েও থেকেছেন বলে জানান। অনেক শ্রমিক আবার কাজ হারিয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন পেট চালাতে। তাই মিল খোলার ঘোষণা হওয়ার পরও, এই কয়েকদিন অপেক্ষা করতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই।

তাঁদের একমাত্র দাবি, মিলগুলি স্থায়ীভাবে চালু থাকুক এবং নিয়মিত কর্মসংস্থান নিশ্চিত হোক। মিল খোলার কথা শুনে ভিন রাজ্য থেকেও ফিরে আসছেন বহু শ্রমিক বলেও জানা গিয়েছে। শ্রমমন্ত্রী তথা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং জানান, ‘মিলগুলির মেনটেনেন্সের কাজ শেষ হলেই পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে। এছাড়াও রাজ্যের অন্যান্য বন্ধ জুটমিলগুলির মালিকপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে।’

তাঁর দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে আরও একাধিক বন্ধ জুটমিল খুলে যাবে। দীর্ঘদিনের সংকটের পর জুটশিল্পে এই ইতিবাচক অগ্রগতি ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের কাছে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। রাজ্যে পালা বদলের পর এবার তাই পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দে জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখছেন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের এই শ্রমিকেরা।