)
Indian techie arrested US: ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বেরিয়ে আসে হাড়হিম সত্যি। জানা যায়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। শ্বাসরোধের কারণেই রাজিতার মৃত্যু হয়েছে। পুলিসি তদন্তেও অবিনাশের দাবিগুলো সব মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পুলিস অ্যাপার্টমেন্টের স্মার্ট-লক ও সিকিউরিটি সিস্টেম পরীক্ষা করে। দেখা যায়, ওই ৪০ মিনিটের মধ্যে অন্য কেউ ঘরে ঢোকেনি।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এবারে আর পথের কাঁটা স্বামী নন, স্ত্রী। পুরনো প্রেমিকাকে ফিরে পেতে স্ত্রীকে সরাতে ভয়ংকর খুনের ছক। স্মুদির সঙ্গে রোজ বিষ, তবে সেই চেষ্টা প্রথমে বিফলে যায়। তারপর স্ত্রী রাজিতাকে গলা টিপে খুনের অভিযোগ ওঠে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি আমেরিকার ওয়াশিংটনের বেলভিউয়ের। অভিযুক্ত ৩০ বছরের অবিনাশ নার্নে মূল বাড়ি তেলঙ্গানায়। গত ১ জুলাই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।
পুলিস জানিয়েছে, অবিনাশের অন্য এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সেই পরকীয়া গোপন রাখতেই সে স্ত্রীকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। গত বছরের ২৫ অক্টোবর নিজের ঘরেই সে স্ত্রীকে খুন করে। ১ জুলাই গ্রেফতারির পর, গত ৫ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা হয়। জামিনের জন্য প্রায় ৪৩ কোটি টাকা (৫ মিলিয়ন ডলার) ধার্য করেছে আদালত। তিনি এখন জেলে আছেন। বিচারে দোষ প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন জেল হতে পারে।
কীভাবে স্ত্রীকে খুন করে অবিনাশ?
ঘটনার দিন অর্থাৎ গত বছর ২৭ অক্টোবর অবিনাশ পুলিসকে ফোন করে। সে জানায়, তার স্ত্রী বাথরুমের ভেতর আটকে গিয়েছেন। কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। পুলিস এসে বাথরুমের দরজা ভাঙে। ভেতরে রাজিতাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিস তখন তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। এরপরই শুরু হয় অবিনাশের নাটক।
পুলিসের কাছে অবিনাশ গল্প বানায়। সে জানায়, কেনাকাটা করতে সে ৪০ মিনিটের জন্য বাইরে গিয়েছিল। ফিরে এসে দেখে বাথরুম বন্ধ। সে আরও বলেন, স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন। কাশির ওষুধ খাওয়ার পর হয়তো মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছেন। এমনকি তাঁর অজান্তে কেউ ঘরে ঢুকে এই কাজ করে থাকতে পারে বলেও সে দাবি করে।
ময়নাতদন্তে রিপোর্টে বেরিয়ে আসে আসল সত্যি
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আসল সত্য বেরিয়ে আসে। চিকিৎসকেরা জানান, এটি একটি খুন। গলা টিপে শ্বাস বন্ধ করে রাজিতাকে খুন করা হয়েছে। এরপর পুলিস বাড়ির দরজার ডিজিটাল লক পরীক্ষা করে। দেখা যায়, ওই ৪০ মিনিটে বাইরে থেকে কেউ ঘরে ঢোকেনি। অবিনাশের ফোন ও কম্পিউটার ঘেঁটেও দেখা যায়, তিনি ইন্টারনেটে বিষ নিয়ে খোঁজখবর করছিল।
রাজিতার ফোন পরীক্ষা করে পুলিস আরও বড় তথ্য পায়। দেখা যায়, রাজিতা তাঁর স্বামীকে অনেকগুলো মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। অবিনাশ প্রতিদিন তাঁকে যে জুস বা স্মুদি বানিয়ে দিত, তা খুব তেতো হত। মৃত্যুর দিনও রাজিতা মেসেজ করে বলেন, জুসটার স্বাদ একদম কাশির ওষুধের মতো লাগছে। পুলিসের ধারণা, গলা টিপে মারার আগেও অবিনাশ বারবার স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করেছিল।
কেন এই হত্যাকাণ্ড?
এই খুনের মূল কারণ ছিল অবিনাশের পুরনো প্রেম। ভারতের এক মেয়ের সঙ্গে তার বহু বছরের প্রেম ছিল। সেই সম্পর্ক লুকিয়েই ২০২৫ সালের জুন মাসে রাজিতার সঙ্গে অবিনাশের বিয়ে হয়। অবিনাশের প্রেমিকাও ওই বিয়েতে এসেছিলেন। বিয়ের পরেও তাঁদের প্রেম চলছিল।
পুলিস আরও জানান, রাজিতার মৃত্যুর দিন অবিনাশ তার প্রেমিকার সঙ্গে চারবার ফোনে কথা বলেছে। এমনকি স্ত্রীকে মারার পরে তাঁর মৃতদেহের ছবি তুলে প্রেমিকাকে পাঠিয়েছিল। পুলিসি টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর অবিনাশ অপরাধের কথা স্বীকার। সব প্রমাণ পাওয়ার পর পুলিস তাকে গ্রেফতার করে।
(Feed Source: zeenews.com)
