)
PM Narendra Modi: চুক্তিটির বড় সুবিধা হল, ভারত তার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য ইউরেনিয়াম পাবে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরেনিয়ামের মজুদ রয়েছে
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যরো: ইরান-আমেরিকা লড়াইয়ে হরমুজ-সহ গোটা পশ্চিম এশিয়া তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। এর অন্যতম একটি কারণ প্রবল জ্বালানী সংকট। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট চরমে উঠেছে। এখানেই ভারত অন্যরকম জ্বালানীর দিকে ঝুঁকেছে। সেক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অস্ট্রলিয়া সফরে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবারহর জন্য একটি চুক্তিতে সাক্ষর করল অস্ট্রেলিয়া। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এই চুক্তির ঘোষণা করেন।
ওই চুক্তিকে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ওই সহযোগিতা ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পথ প্রশস্ত করবে।
ভারত কীভাবে লাভবান
চুক্তিটির বড় সুবিধা হল, ভারত তার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য ইউরেনিয়াম পাবে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরেনিয়ামের মজুদ রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদের ভারতের জ্বালানি সমস্যার একটা সুরাহা হবে।
তেলের বিকল্প
মধ্য প্রাচ্যের ডামাডোল পরিস্থিতিতে, ভরতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারত তার পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারবে। কয়লা ও গ্যাসের তুলনায় পারমাণবিক শক্তিতে কার্বন নির্গমন অনেক কম। ফলে এটিকে পরিবেশবান্ধব বা ‘ক্লিন এনার্জি’র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস বলে মনে করা হয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে পর্যাপ্ত ইউরেনিয়াম পাওয়া গেলে নতুন নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো এবং সেগুলো বাড়ানো সহজ হবে।
চুক্তিটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভারত তার জ্বালানি চাহিদার জন্য এখনো বহুলাংশে তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ আসে সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কুয়েত এবং কাতারের মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে। ওইসব দেশগুলো থেকে আসা বেশিরভাগ তেলের ট্যাঙ্কারই হরমুজ প্রণালী পার হয়ে আসে। তাই পশ্চিম এশিয়ায় কোনো উত্তেজনা তৈরি হলে বা হরমুজ প্রণালীতে কোনো বাধা এলে তা জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি আঘাত হানতে পারে—যার আভাস আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি। পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির (তেল ও গ্যাস) ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। এটি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
(Feed Source: zeenews.com)
