)
Sundar Pichai: পিচাই জানান, “আমেরিকা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দেশে একটা ফোন করতে প্রতি মিনিটে দু ডলারের বেশি খরচ হতো। একটা ব্যাকপ্যাক বা স্কুলব্যাগের দাম ছিল ভারতে আমার বাবার এক মাসের বেতনের সমান।”
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সুন্দর পিচাই। গুগলের সিইও। বর্তমানে তাঁর বেস স্যালারি-ই ২০ লাখ ডলার। সারা বিশ্ব যার হাতের মুঠোয়! কিন্তু তাঁরও শুরুটা এইরকম ছিল না। এই অভাবনীয় সাফল্যের পিছনে তাঁর মধ্যবিত্ত পরিবারের কতটা কঠিন সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ লুকিয়ে আছে, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেকথা তুলে ধরেছেন তিনি। গোটা এক বছরের বেতন জমিয়ে সুন্দর পিচাইয়ের আমেরিকায় পড়তে যাওয়ার জন্য প্লেনের টিকিৎ কেটেছিলেন তাঁর বাবা।
চেন্নাইয়ের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া সুন্দর পিচাইয়ের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়াটা ছিল মস্ত বড় এক স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল আমেরিকায় যাওয়ার বিমানের টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম। পিচাই বলেন, বিমানের টিকিটের দাম ছিল বাবার প্রায় এক বছরের বেতনের সমান। কিন্তু কষ্টের মধ্যেও ছেলের স্বপ্নকে ডানা মেলতে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি তাঁর বাবা।
পিচাই বলেন, “আমার বাবা আমাকে আমেরিকায় পাঠানোর জন্য এক বছরের বেতন জমিয়েছিলেন। এক বছরের বেতনের সমান টাকা দিয়ে আমার আমেরিকা আসার প্লেনের টিকিট কেটেছিলেন। যাতে আমি স্ট্যানফোর্ডে পড়তে পারি, তাই আমার বাবা আমার আমেরিকার বিমানের টিকিট কাটার জন্য এক বছরের বেতনের সমান টাকা খরচ করেছিলেন। ওটাই ছিল আমার জীবনে প্রথমবার প্লেনে চড়া।” তিনি আরও বলেন, “কিন্তু আমি যখন শেষপর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় নামি, তখন পরিস্থিতি মোটেই আমার অনুকূল ছিল না।” তাঁর মতে, আমেরিকায় পৌঁছেই তাঁর লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর নিজের জন্যেও নয়, তাঁর পরিবারের জন্যেও নয়।
পিচাই জানান, “আমেরিকা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দেশে একটা ফোন করতে প্রতি মিনিটে দু ডলারের বেশি খরচ হতো। একটা ব্যাকপ্যাক বা স্কুলব্যাগের দাম ছিল ভারতে আমার বাবার এক মাসের বেতনের সমান।” মনের আগল খুলে পিচাইয়ের এই অকপট স্মৃতিচারণ যেন ভারতের অনেক বাবা-মায়ের বাস্তব অবস্থারই প্রতিচ্ছবি। সংগ্রামকে তুলে ধরে।
প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য হাজার হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী দেশ ছাড়ে। যদিও প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতি আলাদা, তবুও সচেতন থাকা এবং বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি নেওয়া সন্তান ও বাবা-মা উভয়ের জন্যই এই পরিবর্তনকে অনেক সহজ করে তুলতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
