)
দেশের নাম ভারত। আর প্রধানমন্ত্রীর নাম নরেন্দ্র মোদী। ফলে যা কিছুই সম্ভব। এটাই মোদী ম্যাজিক। আর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিবিএল ভারতের মাটিতে। বিরাট আপডেট চলে এল!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাইশ গজে এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে গেল। অস্ট্রেলিয়ার ১ নম্বর টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিগ ব্যাশ লিগে বিরাট আপডেট। এই প্রথমবার বিবিএলের উদ্বোধনী ম্যাচ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে! তাও আবার ভারতে। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ‘স্পোর্টস কোলাবরেশন রোডম্যাপ’-এর অংশ হিসেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬-২৭ মরসুমের বিবিএলের পর্দা উঠছে চেন্নাইয়ের বিখ্যাত এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে। মেলবোর্ন রেনেগাদেস এবং পার্থ স্কর্চার্স মুখোমুখি এমএস ধোনিদের আইপিএলের ঘরের মাঠ চিপকে। ১২ ডিসেম্বর ভারতীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে রেনেগাদেস এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্কর্চার্সের মধ্যে বিবিএল ২০২৬-২৭ মরসুমের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে।
ইতিহাসে এই প্রথমবার ভারতের মাটিতে কোনও বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগের ম্যাচ আয়োজন হচ্ছে। তাও আবার বিবিএল। বিশ্বের সেরা ৫ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মধ্যে প্রথম তিনেই থাকবে বিবিএল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের উপস্থিতিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। শুক্রবার এমসিজি-তে মোদী বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে চেন্নাইয়ে বিগ ব্যাশ লিগের একটি ম্যাচ আয়োজন করা হবে। আমাদের দেশে যে কোনও ক্রীড়া লিগের ম্যাচ আয়োজন করা হলে তা বিপুল সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছনোর পাশাপাশি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তাও অর্জন করে।’ আলবানিজ বলেন, ‘খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগ অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকে এক করেছে। এই স্পোর্টস রোডম্যাপ আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই ভিত্তিপ্রস্তরকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি এবং গবেষণার মতো বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলির উপর আলোকপাত করবে।’
দুই-দেশ এক সুতোয় বাঁধা
আলবানিজ সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত জুড়ে সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত ‘জি-ডে নমস্তে’ উৎসবের মূল আকর্ষণই ছিল এই ঘোষণা। এই উৎসবে অস্ট্রেলীয় সংস্কৃতি, ব্যবসা ও খেলাধুলা বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, এমসিজি-তে মোদী ও আলবানিজের যৌথ ভাবে উন্মোচিত ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রীড়া সহযোগিতা রোডম্যাপ’-এর লক্ষ্যই হল ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্রীড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ক্রীড়া শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়া। মোদী জানিয়েছেন মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলোর এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে এবং এই কর্মপরিকল্পনা ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যের ক্রীড়া-সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে সহায়তা করবে। মোদী আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে অভিনন্দন জানান এবং জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে উভয় দেশই এক গুরুত্বপূর্ণ দশকের দিকে এগিয়ে চলেছে। যেখানে ভারত ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস এবং অস্ট্রেলিয়া ২০৩২ সালে ব্রিসবেন অলিম্পিক্স আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তারকাদের ছড়াছড়ি
এমসিজি-তে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিলেন ভিক্টোরিয়ার ৪৯তম প্রিমিয়ার জাসিন্টা অ্যালান, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন অধিনায়ক স্টিভ ওয়া এবং অস্ট্রেলীয় নারী দলের প্রাক্তন অধিনায়ক লিসা স্থালেকর। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, এই সফর ভারত-অস্ট্রেলিয়া ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর মূল উপাদান হিসেবে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। এই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া যুব ক্রীড়া উৎসব’-এর আয়োজন করবে আগামী দিনে। যার লক্ষ্যই হবে তরুণ ক্রীড়াবিদদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করা।
(Feed Source: zeenews.com)
