)
কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠেই মেজাজ হারালেন শান্ত স্বভাবের মেসি। গোল না পাওয়ার হতাশা ও রেফারির খারাপ ব্য়বহার আর মানতে পারেননি তিনি। মাঠেই ধুন্ধুমার বাঁধল। ভিডিয়ো এখন ভাইরাল
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-সুইত্জারল্যান্ডের মহারণ শুধুই ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। পৌঁছেছিল ভিন্ন মাত্রায়। সুইসরা ১০ জনে খেলেও ৯০ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ১-১ ধরে রেখেছিল। ১০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। ৬৬ মিনিটে সেই গোল শোধ করে দিয়েছিলেন সুইত্জারল্যান্ডের ড্যান এনডয়। ৭২ মনিটে ব্রিল এম্বেলোকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার ভয়াবহ আক্রমণে ভেঙে পড়েছিল -সুইত্জারল্যান্ড। ৯ মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল ( জুলিয়ান আলভারেজ ১১২’, লাউতারো মার্টিনেজ ১২১’) করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা শেষ চারের কনফার্মড টিকিট কেটে নেয়। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনও ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি। স্বভাবতই হতাশ ছিলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার। সুইস আর্মি মেসিকে নিস্ক্রিয় করে দিয়েছিল। গোল করে খবরে না আসলেও মেসি খবরে এসেছেন রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনহেইরোর সঙ্গে মাঠে তুমুল কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে।
রেফারির সঙ্গে ধুন্ধুমার মেসির!
ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ জোয়াও পেদ্রো। ৩৮ বছরের পর্তুগিজ বাসিন্দা উয়েফার এলিট ক্যাটাগরির রেফারিদেরই একজন। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের মতো ম্যাচ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পেয়েছিলেন ফিফার থেকে। প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ডের ফ্রি-কিক নেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মেসির সঙ্গে রেফারির ঝামেলা বাঁধে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ ওয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা মেসিকে রেফারি নির্দিষ্ট দূরত্বে সরে যেতে বলেছিলেন। আর তখনই আপত্তি জানান এলএম টেন। পর্তুগিজ রেফারির কথা বলার ভঙ্গি তাঁর মোটেই পছন্দ হয়নি। মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক কড়া জবাব দেন রোনাল্ডোর দেশের রেফারিকে। মেসি বলেন, ‘এই ঠিক করে কথা বলুন, আমাকে অসম্মান করবেন না। আমি তো আপনার সঙ্গে ঠিক ভাবেই কথা বলেছি। তাহলে আপনিও আমার সঙ্গে ঠিক ভাবে কথা বলুন, এ কী…!’ শান্ত মেজাজের মেসিও এদিন আর মাথা ঠিক রাখতে পারেননি।
কেন লাল কার্ড এমবেলোকে?
৭২ মিনিটে এম্বেলোকে দেখানো পিনহেইরোর কার্ড নিয়েও বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। ম্যাচে ‘সিমুলেশন’ বা ‘ডাইভ’ দেওয়ার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ার পর ব্রিল এমবোলো লাল কার্ড দেখেন। পিনহেইরো প্রথমে এমবোলোর বিরুদ্ধে হওয়া ফাউলের জন্য বাঁশি বাজান এবং আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। এরপর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির হস্তক্ষেপ করে ফিফার নতুন ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ ওরফে ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ নিয়মে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনার (অন-ফিল্ড রিভিউ) অনুরোধ জানান। এই নিয়মটি ম্যাচ অফিসিয়ালদের এমন সব ঘটনা পর্যালোচনা ও সংশোধন করার সুযোগ থাকে, যেখানে ভুল খেলোয়াড় বা দলকে কার্ড দেখানো হলে তা বদলে নেওয়া যায়। রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায় যে, পারেদেসের সঙ্গে কোনও শারীরিক সংস্পর্শ হওয়ার আগেই এমবোলো মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন। রেফারি আর্জেন্টাইনের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করে নেন এবং ‘সিমুলেশন’ বা ইচ্ছাকৃত ভাবে পড়ে গিয়ে ফাউল আদায়ের চেষ্টার দায়ে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। যেহেতু ৪৪তম মিনিটে এমবোলো একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন, ফলে দ্বিতীয় হলুদ জুড়ে তা লাল হয়ে যায়। এমবেলো কান্নায় ভেঙে পড়েন ও মাঠ ছাড়েন।
আমার ছেলেরাই আসল নায়ক। ওরা ওদের পারফরম্যান্সে সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে এবং সব আবেগ ঢেলে দিয়েছে। আমি ওদের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত, ওরাও গর্বিত। রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমার মতে ওটা ছিল খুব সাদামাটা ফাউল, আদৌ ওটাকে ফাউল বলা যায় কিনা জানি না। আমি জানি রেফারিকে আড়াল করার চেষ্টা করা হবে এখন। কিন্তু এই নিয়মই তো আজ আমাদের খেলাটাই পুরো নষ্ট করে দিল। যা খুবই বেদনাদায়ক এবং আবারও বলব, এভাবে বিদায় নেওয়া ভীষণ কষ্টদায়ক।’ রেফারিং নিয়ে বিশ্বকাপে বিতর্ক চলছেই…
(Feed Source: zeenews.com)
