)
শেষ হয়ে গেল একটা ক্রিকেটীয় অধ্য়ায়। আর তিনি কোচ নন। দিয়েছেন অনেক সাফল্য়। কিন্তু রয়েছে হারের কাঁটাও। অবশেষে মহারথীকে আলবিদা বলল বোর্ড।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাইশ গজ কাঁপানো বাজবল ক্রিকেটের বিদায়ঘণ্টা বেজেই গেল। টেস্ট টিমের হেডকোচের পদ থেকে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ছাঁটাই করল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। প্রাক্তন কিউয়ি কিংবদন্তির চাকরি গেল না তিনি নিজেই চাকরি ছাড়লেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ একাধিক মিডিয়া একাধিক রিপোর্টই দিয়েছে। তবে দ্য গার্ডিয়ান বলছে যে, ইসিবি তাঁকে সরিয়েছে। ম্যাককালামের কোচিংয়ে ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি দল ভারতকে ৪-০ চুনকাম করেই আইসিসি ক্রমতালিকায় একে উঠে এসেছে। আর এই ঘটনরা ঠিক একদিন পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তবে ম্যাককালাম পুরুষদের হোয়াইট-বল দলের কোচের দায়িত্বে বহাল থাকছেন।
ম্যাককালাম- স্টোকসের যুগলবন্দি
প্রাক্তন টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকসের সাম্প্রতিক অবসরের পরই ইসিবি নতুন করে দল সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ফলস্বরূপ এই পদক্ষেপ। স্টোকসের সঙ্গে ম্যাককালামের জুটির প্রাথমিক প্রভাব ছিল অসাধারণ। স্টোকস-ম্যাককালাম যুগলবন্দির আগে যে দল ১৭ টেস্টের মধ্যে মাত্র একটিতেই জিতেছিল, তারাই এরপর প্রথম ১১ টেস্টের মধ্যে ১০টিই জেতে। তাঁরা এমন এক আক্রমণাত্মক ধাঁচের ক্রিকেট খেলছিলেন, যা দ্রুতই বাজবল ঝড় তুলেছিল বাইশ গজে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সাফল্যের ধারা ম্লান হয়ে আসে। স্টোকসের সঙ্গে ম্যাককালামের সম্পর্কের অবনতির পাশাপাশি অ্যাশেজে শোচনীয় পরাজয়ও রয়েছে। ম্যাককালামের কোচিংয়ে খেলা শেষ ১১টি টেস্টের মধ্যে ইংল্যান্ড মাত্র তিনটিতেই জিততে পেরেছিল। সব মিলিয়ে ম্যাককালামের কোচিংয়ে ইংরেজরা ৪৯টি টেস্ট খেলেছে। রয়েছে ২৭টিতে জয়, ২০টিতে হার এবং ড্র হয়েছে দু’টি।
বিদায়লগ্নে কী বললেন ম্যাককালাম
‘টেস্ট দলের কোচিং করানো আমি দারুণ উপভোগ করেছি এবং আমরা সবাই মিলে যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই যাত্রাপথে যেমন অবিশ্বাস্য সব সাফল্যের মুহূর্ত এসেছে, তেমনি কিছু কঠিন দিনও পার করেছি। তবে এই ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব ভীষণ স্বাভাবিক। এই দায়িত্ব আমার কাছে বিশেষ সম্মান ও সৌভাগ্যের ছিল এবং আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ এবং যেসব ভক্তরা এই যাত্রায় আমাদের পাশে ছিলেন, সবার কাছেই কৃতজ্ঞ। অবশ্যই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে না পারায় আমি ভেঙে পড়েছি। তবে আমি এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। এখন আমার পুরো মনোযোগ থাকবে সাদা বলের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) দলের উপর। আমি চাইব আমার সাধ্য মতো সবকিছু দিয়ে ইংল্যান্ডকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। টেস্ট দলের জন্য আমার শুভকামনা রইল। ওই ড্রেসিংরুমে প্রচুর প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা রয়েছে এবং তারা সত্যিই অসাধারণ একদল তরুণ। আমি সবসময়ই হাসিমুখে তাদের পাশে থাকব এবং আশা করব তারা এভাবেই সাহসিকতার সঙ্গে খেলা চালিয়ে যাবে। আমি জানি তারা ভবিষ্যতেও গর্বের কারণ হয়ে উঠবে।’
আগামী সপ্তাহে ভারতের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড তিনটি ওডিআই খেলবে এবং এরপর ঠিক এক মাস কোনও ম্যাচ থাকবে না। ভারতের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ভাবে ৪-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর গত শনিবার ম্যাককালাম সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছিলেন। অথচ তখন তিনি এমন কোনও ইঙ্গিতই দেননি যে এমন কিছুই ঘটতে যাচ্ছে। যা চমকে দিয়েছে অনেককেই।
(Feed Source: zeenews.com)
