
Diabetic Foot Ulcer in Monsoon:বর্ষা জারি পুরোদমে! ডায়াবেটিস রোগীরা, জেনে নিন কীভাবে নিজের পায়ের যত্ন নেবেন। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে পায়ের যত্নের একটি কঠোর নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করুন, বিশেষ করে বর্ষাকালে।
বর্ষাকাল এসে গেছে। যদিও অনেকে বৃষ্টিতে ভিজতে বা অফিস, স্কুল, কলেজ ইত্যাদিতে যাওয়ার সময় জলমগ্ন এলাকা দিয়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হন, তবুও আপনার পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির জলে প্রচুর জীবাণু, মলমূত্র, মৃত ইঁদুর এবং আরও অনেক কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে। এটা সর্বজনবিদিত যে ডায়াবেটিস রোগীদের সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে এবং তাদের ক্ষত সারতে অনেক সময় লাগে। বর্ষাকাল আপনাকে এই ধরনের সংক্রমণের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। বর্ষাকালে ডায়াবেটিস রোগীদের কীভাবে এবং কেন নিজেদের যত্ন নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে বলেছেন ফরিদাবাদ (এনসিআর)-এর মারেঙ্গো এশিয়া হসপিটালস-এর ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর এবং মিনিমাল ইনভেসিভ, জেনারেল, লেজার ও রোবোটিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডঃ মনু শঙ্কর। (AI Image)
বর্ষাকাল ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ। পায়ে সবসময়ই ছোটখাটো আঘাত লাগার ঝুঁকি থাকে। অনুভূতি কমে যাওয়া (নিউরোপ্যাথি), ছোট রক্তনালীর সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করা, ছোটখাটো আঘাত এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির জন্য অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বর্ষাকালে ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস রোগীরা যদি বৃষ্টি-দূষিত জলের সংস্পর্শে আসেন—যেমন জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া বা গভীর ডোবায় পা রাখা—তবে তা তাদের পায়ের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে আর্দ্রতার সংস্পর্শে থাকলে ত্বক নরম হয়ে যেতে পারে, ফলে এতে ফাটল, ঘা এবং ফোস্কা পড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। ত্বকের এই ক্ষত এবং রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ায় নিরাময় প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যা সহজেই ডায়াবেটিক ফুট আলসারে পরিণত হতে পারে। ডায়াবেটিক ফুট আলসারের চিকিৎসা না করালে তা থেকে গুরুতর সংক্রমণ, অঙ্গচ্ছেদ এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পেতে পারে।
শরীরের সবচেয়ে অবহেলিত অংশ হল পা, এবং আমাদের বেশিরভাগেরই বাড়িতে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস আছে। বর্ষাকালে ভেজা চামড়া স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় এবং স্নায়ুবিক দুর্বলতার কারণে পা কোনো ছোটখাটো আঘাতও টের পায় না। এতে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের সুযোগ পায়। পায়ের যত্নের একটি কঠোর নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করুন, বিশেষ করে বর্ষাকালে। বাড়ি ফিরে যেমন আমাদের হাত ধোয়ার অভ্যাস আছে, তেমনি আমাদের পায়ের ক্ষেত্রেও একই কাজ করা উচিত। একটি টবে হালকা গরম জলে পা ডুবিয়ে রেখে ফুট বাথ নিন। পায়ের চামড়া নরম হয়ে গেলে সাবান ও জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি কোনও শক্ত জায়গা অনুভব করেন, তবে একটি নরম স্ক্রাবার ব্যবহার করতে পারেন।
আপনার পা ভালভাবে শুকিয়ে নেওয়া এবং কোনো ফোস্কা, ফাটল বা আঘাত আছে কিনা তা পরীক্ষা করাও জরুরি। এরপর গোড়ালি থেকে আঙুলের দিকে কিছুটা ফুট ক্রিম বা নারকেল তেল দিয়ে পা ম্যাসাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সংক্রমণ এড়াতে আপনার পায়ের নখ সোজা করে কাটুন এবং খুব বেশি গভীর করে কাটবেন না।
বাইরে বা এমনকি বাড়িতেও খালি পায়ে হাঁটবেন না; একজোড়া ঢাকা জুতো ব্যবহার করুন। আপনি যতই সতর্ক থাকুন না কেন, এমন সময় আসতেই পারে যখন আপনার পা কোনো আসবাবপত্র বা দেয়ালে ধাক্কা খেতে পারে। একজোড়া ঢাকা জুতো পরলে আপনার পা এই ধরনের ছোটখাটো আঘাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে। জুতোটি যেন মাপমতো হয়, গদিযুক্ত এবং পরিষ্কার থাকে। এর সাথে আপনি একজোড়া মোজাও পরতে পারেন এবং দিনে দুবার তা বদলাতে পারেন।
(Feed Source: news18.com)
