)
Rawalakot Eidgah Ground Protest Firing: স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের শোষণমূলক নীতি, অতিরিক্ত করের বোঝা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) আটা-ময়দার আকাশছোঁয়া দাম, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা এবং মৌলিক অধিকারের দাবিতে সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দান-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আন্দোলনকারী ও পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বিক্ষোভে লাগাম টানতে পাকিস্তানি সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী (রেঞ্জার্স) নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে তাজা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস চালায়। এই সেনা অভিযানে অন্তত ৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের শোষণমূলক নীতি, অতিরিক্ত করের বোঝা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (JAAC) ব্যানারে ব্যবসায়ী, আইনজীবী ও ছাত্রসমাজ একজোট হয়ে এই গণ-আন্দোলনের ডাক দেয়। কিন্তু এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে পাকিস্তানি প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ও হিংসাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী একে ৪৭ (AK-47) রাইফেল দিয়ে নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালাতে শুরু করে। চারদিকে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণ বাঁচাতে মানুষ দিগ্বিদিক দৌড়াতে থাকেন। পুলিসের গুলিতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নতুন করে বিক্ষোভ ঠেকাতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রশাসন সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন (Communications Blackout) করে দিয়েছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি প্রধান প্রধান রাস্তা ও যোগাযোগ পথগুলো ব্যারিকেড দিয়ে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আন্দোলনের গতি রুখতে বাজারে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি রেশনের জোগানও ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারের প্রতি স্থানীয়দের ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরেই জমছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে পাকিস্তানের দমনপীড়ন চরমে পৌঁছেছে। গত ৫ জুন ইসলামাবাদ প্রশাসন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়।
সাধারণ জনগণের অধিকারের লড়াইকে এভাবে বুলেটের জোরে ধামাচাপা দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা। বিশ্বমঞ্চের নজর এড়াতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও, এই নৃশংস সেনা অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
