)
Donald Trump on Hormuz: হরমুজ প্রণালীর দখল নিতে নতুন করে আসরে নামলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেছেন, হরমুজ দিয়ে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ গেলেই সেটি থেকে ২০ শতাংশ শুল্ক নেবে আমেরিকা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় ফের ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। ইরানের ওপর আবারও নৌ-অবরোধ জারি করল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা সমস্ত বাণিজ্যিক কার্গোর জন্য ২০ শতাংশ শুল্ক নেবে মার্কিন প্রশাসন। এই প্রণালীর ‘অভিভাবক’ হিসেবে নিরাপত্তা দেওয়ার স্বার্থেই এই বড় অঙ্কের মাশুল দাবি করেছেন তিনি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ১৪ জুলাই থেকে ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক ঘাঁটির ওপর টানা তৃতীয় রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের ক্ষমতা খর্ব করতেই এই লাগাতার হামলা চালানো হচ্ছে। এর জেরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এই উত্তেজনার মাঝেই হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলের ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে এক ভারতীয় ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। ইরানের এই আক্রমণাত্মক রূপের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকা বিনামূল্যে হরমুজ প্রণালী পাহারা দেবে না। অন্য দেশগুলো লাভবান হবে আর মার্কিন সেনারা জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে, তা আর হতে দেওয়া যাবে না।
তবে ট্রাম্পের এই ২০ শতাংশ টোল নেওয়ার ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে চরম শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বর্তমান তেলের বাজার দর অনুযায়ী, একটি সম্পূর্ণ বোঝাই বড় তেল ট্যাংকারের জন্য এই ২০ শতাংশ টোলের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। হঠাৎ এমন ফি আরোপের ঘোষণায় চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছে বিশ্বের বড় বড় শিপিং সংস্থাগুলো। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথে কোনও দেশ এককভাবে কর আদায় করতে পারে না। ফলে জাতিসংঘের মেরিটাইম ওয়াচডগ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে উপহাস করে বলেছেন, ইরানই চিরকাল হরমুজ প্রণালীর আসল অভিভাবক থাকবে এবং ২০ শতাংশ টোলের দাবি অবান্তর।
মাত্র তিন সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে। মার্কিন সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। আগামী নভেম্বর মাসের মার্কিন নির্বাচনের ঠিক আগে এমন সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
(Feed Source: zeenews.com)
