)
লর্ডসেই অন্তিমবার দেশের জার্সিতে দেখা যাবে রোহিত শর্মাকে। অবসর নেওয়ার প্রবল চাপেই খেলছেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে। তবে সিরিজ শেষ হলেই শেষ হয়ে যাবে সাদা বলের গ্রেটের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার! চলে এল বিরাট আপডেট।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ খেলতে ভারত এখন বিলেতে। সিরিজের ফল এখন ১-১। বার্মিংহ্যামে প্রথম ওডিআই ভারত ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল। তবে কার্ডিফে ইংল্যান্ডে ৪ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে সিরিজ জমিয়ে দিয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই লর্ডসে সিরিজের ফয়সলা। যে জিতবে, সিরিজ তার। আর এই আইকনিক মাঠেই আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ ইনিংস খেলতে চলেছেন রোহিত শর্মা! তাঁর অবসরে সিলমোহর পড়ে গিয়েছে বলেই রিপোর্ট একাধিক মিডিয়ার। ২০১৭ ওডিআই বিশ্বকাপের ভাবনায় এখন আর রোহিত নেই। তাঁকে জায়গা ছেড়ে দিতে হচ্ছে যশস্বী জয়সওয়ালকে। বার্মিংহ্যামে রোহিত ১১ করেছিলেন ২১ বলে। এরপর কার্ডিফেও রোহিত ফিরেছেন ৪৭ বলে ২৬ রান করে। বয়স আর ফর্মের বিচারেই রোহিত নেই আর বিসিসিআইয়ের ভাবনায়। জানা যাচ্ছে অবসর নেওয়ার প্রবল চাপই গ্রাস করেছে রোহিতকে। অজিত আগরকর ও গৌতম গম্ভীরের জুটিও নাকি আর চাইছেন না সাদা বলের ক্রিকেটে এই প্রজন্মের গ্রেটকে। যার ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই খেলা ছেড়ে দিচ্ছেন দেশের বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
কী জানা যাচ্ছে রোহিতের অবসরের প্রসঙ্গে
বিসিসিআইয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তেই পিটিআই-কে কিছু কথা শেয়ার করেছেন। তাঁকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা লিখেছে, ‘জাতীয় দলের নির্বাচকরা চাইছেন যেন যশস্বী জয়সওয়াল নিজেকে প্রমাণ করার জন্য আরও বেশি সুযোগ পায়। ওর তিন ইনিংসে দু’টি সেঞ্চুরি রয়েছে। সামনে প্রায় ২০টি ম্যাচ আছে এবং যশস্বীকে সেই ম্যাচগুলিতে খেলার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। দেখুন রোহিতকে কেউ অবসরের কথা বলতে পারে । তবে এটা স্পষ্ট যে, সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের জন্য নির্বাচকরা ভবিষ্যতের দিকেই নজর দিতে চাইছেন। রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত ওকেই নিতে হবে। সাদা বলের ক্রিকেটে এই টিম ও দেশের জন্য রোহিতের প্রচুর অবদান। কোচ চাইছেন রোহিত যেন তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ার জুড়ে যেভাবে খেলে এসেছে, সেভাবেই খেলুক এবং নিজের স্বাভাবিক খেলাই মেলে ধরুক। চাপের মুখে রোহিত যেভাবে ব্যাট করছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে, তার ক্রমাগত চুলচেরা বিশ্লেষণের বদলে কিছুটা সময় ও মানসিক স্বস্তির প্রয়োজন। ওর মানের খেলোয়াড়রা তখনই সেরাটা দিতে পারে যখন বাইরের চাপ থেকে মুক্ত থাকে এবং নিজের সহজাত প্রবৃত্তির উপর আস্থা রাখার সুযোগ পায়। প্রতি ইনিংস নিয়েই অতিরিক্ত বিশ্লেষণের পরিবর্তে, বছরের পর বছর ধরে ভারতের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসছে, ওপ উপর আস্থা রাখা জরুরি। স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে ও যেরকম আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে যে, একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেবে আর কখনও কখনও কৌশলগত পরিবর্তনের মতোই বিশ্বাস ও ধৈর্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’
ভারতীয় দল কী বলছে রোহিতকে নিয়ে
রোহিতের উপর কোনও চাপ নেই বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। তিনি সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন, ‘দেখুন, রোহিত শর্মার মতো এত বড় একজন প্লেয়ারের উপর কোনও ধরনের চাপ থাকতে পারে বলে আমার মনে হয় না। খেলোয়াড় হিসেবে রোহিতের মান এতটাই উঁচুতে যে, এমনঅনুভব করার প্রশ্নই ওঠে না। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, শুরুর দু’ম্যাচে ও রান পায়নি ঠিকই। কিন্তু আমার মনে হয় না তাতে খুব একটা কিছু যায় আসে। তবে দ্বিতীয় ওডিআই-তে মনে হচ্ছিল যে, হয়তো ভালো ইনিংস খেলবে। কিন্তু ঠিক আছে, সত্যি বলতে, আমি নিজেও প্রচুর ক্রিকেট খেলেছি এবং দেখেছিও অনেক। এমন অনেক দিন যায় যখন অনেক ব্যাটারই কাঙ্ক্ষিত ছন্দ খুঁজে পায় না। এটা তো হতেই পারে। লর্ডসে হয়তো রোহিতের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইনিংস দেখা যাবে। ও ধুঁকছে… এমন শব্দ ব্যবহার করব না। তবে পিচের ডাবল বাউন্সের কারণে হয়তো রোহিত ওর স্বাভাবিক শটগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারছিল না। শুভমান ও বিরাট দ্রুত রান তুলে শুরুটা ভালো করেছিল, কিন্তু রোহিত হয়তো ওর পছন্দের জায়গায় বা স্লটে বল পায়নি কিংবা ঠিক ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। আমার তো সেটাই মনে হয়েছে। রোহিতের মতো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে নিশ্চিত ভাবেই সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনও ইনিংস দেখা যেতেই পারে। অনেক ব্যাটারের ক্ষেত্রেই এমনটা হতে আমি দেখেছি। তাই বিষয়টি কেবল রোহিতের ক্ষেত্রেই নয়। আমি কোনও ভাবেই বলব না যে ও ধুঁকছে।’ দেখা যাক লর্ডসই রোহিতের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় নাকি ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর ইনিংস দীর্ঘায়িত হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
