)
Supreme Court: “গরিব বলে চিকিৎসা করলেন না? নামের আগে থেকে ডাক্তার শব্দটাই মুছে দিন!” গাজিয়াবাদে ৪ বছরের এক ধর্ষিতা শিশুকে ফিরিয়ে দেওয়ার জেরে তার মৃত্যুর ঘটনায় দুই বেসরকারি হাসপাতালকে নজিরবিহীন ভাষায় তুলোধোনা করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কাঠগড়ায় পুলিসের ভূমিকাও। নির্যাতিতার পরিবারকে জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: “আপনারা ওকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কারণ ও গরিব ছিল। আপনাদের চড়া ফি দেওয়ার ক্ষমতা ওই পরিবারের ছিল না! যদি ন্যূনতম মানবিকতা থাকত, তবে নিজেদের হাসপাতালে পরিকাঠামো না থাকলেও আপনারা নিজেরা ওই শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতেন।” গাজিয়াবাদের এক ৪ বছরের গণধর্ষণ ও খুনের শিকার শিশুর চিকিৎসায় চরম অবহেলার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের দুটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং তাদের চিকিৎসকদের এভাবেই নজিরবিহীন ভাষায় ভর্ৎসনা করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাফ জানায়, “নিজেদের কর্তব্য পালন করতে না পারলে নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখার কোনো অধিকার আপনাদের নেই। নামের পাশ থেকে ‘ডাক্তার’ শব্দটাই এবার বাদ দিয়ে দিন!” একইসঙ্গে দণ্ডস্বরূপ ওই নির্যাতিতার পরিবারকে স্বেচ্ছায় আর্থিক অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অন্যথায় কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি গত ১৬ মার্চের। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ৪ বছরের এক শিশুকন্যাকে চকোলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় এক প্রতিবেশী। দীর্ঘক্ষণ সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির অদূরেই রক্তাক্ত এবং অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে।
পরিবারের দাবি, উদ্ধারের পর আরও প্রায় ২ ঘণ্টা বেঁচে ছিল ওই শিশুটি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে তড়িঘড়ি এলাকার দুটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, শিশুটির পরিবারের আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হওয়ায় তাকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে হাসপাতাল দুটি। এরপর অসহায় পরিবার তাকে গাজিয়াবাদ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো বেঁচে যেত তাঁদের একরত্তি মেয়ে।
সিটের (SIT) রিপোর্টে সিলমোহর, কাঠগড়ায় পুলিসও
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তদন্তের পর জানায়, হাসপাতাল দুটির বিরুদ্ধে ওঠা চিকিৎসার গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্যি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন বলেন, “এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হল দুটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং স্থানীয় পুলিসের চরম উদাসীন ও অমানবিক মনোভাব।”
শুধু হাসপাতালই নয়, এই মামলায় পুলিসের ভূমিকাও এখন শীর্ষ আদালতের আতশকাচের তলায়। অভিযোগ, ঘটনার দিনই পরিবার থানায় গেলেও পুলিস মামলা নেওয়া তো দূরঅস্ত, উল্টে নির্যাতিতার পরিবারকে মারধর করে। পরে চারদিকে তীব্র ক্ষোভ ছড়ালে ১৭ মার্চ এফআইআর দায়ের হয় এবং ১৮ মার্চ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই এফআইআর-এ পকসো আইন বা ধর্ষণের ধারা (৩৭৬) যুক্ত করেনি পুলিস। এই চরম গাফিলতির জেরে গত এপ্রিল মাসেই গাজিয়াবাদের পুলিস কমিশনার এবং তদন্তকারী অফিসারকে কেস ডায়েরিসহ তলব করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি এদিন স্পষ্ট করে দেন, “এখানে শুধু ক্ষতিপূরণ দেওয়াই বড় কথা নয়, ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাটাই আসল উদ্দেশ্য।”
(Feed Source: zeenews.com)
