
সাধারণত গ্রামাঞ্চলে আমরা বেশিরভাগই ছোট ছোট বাড়ি দেখতে পাই। কোথাও কোথাও আধাপাকা বাড়িও চোখে পড়ে। এই বাড়িগুলি দেখলেই এক আলাদা ভাল লাগার অনুভূতি তৈরি হয়। উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার বহু কৃষক আজও শহরের চেয়ে গ্রামকেই বেশি ভালবাসেন। তাই তাঁরা গ্রামেই বড় ও দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ করতে পছন্দ করেন। এমন বিশাল বাড়িগুলি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। দিল্লি-মেরঠ সড়কের ধারে এমনই একটি বাড়ি রয়েছে, যা প্রায় ২৫০ বিঘা জমির মধ্যে নির্মিত। এই রাজকীয় বাড়িটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল, এতে রয়েছে ৫২টি কক্ষ এবং ১৫২টি দরজা-জানালা। এর বিশালতা ও স্থাপত্যের সৌন্দর্য যে কাউকেই মুগ্ধ করে।
বড় শহরগুলিতে প্রায়ই আমরা দৃষ্টিনন্দন ও বিলাসবহুল বাড়ি দেখতে পাই। কিন্তু কোনও গ্রামে যদি এমন একটি বিলাসবহুল বাড়ি দেখা যায়, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়ের পাশে গাজিয়াবাদ জেলার অন্তর্গত গঢ়ি মোদিনগর নামে একটি গ্রাম রয়েছে। এই গ্রামেই ২৫০ বিঘা জমির মধ্যে নির্মিত একটি বিশাল বাড়ি রয়েছে, যা তার জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। এই বাড়িতে রয়েছে ৫২টি কক্ষ এবং শত শত জানালা। এই প্রাসাদসদৃশ বাড়িটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। কবে এই বাড়িটি নির্মিত হয়েছিল, কে এর মালিক—চলুন জেনে নেওয়া যাক।
প্রাসাদসদৃশ এই বাড়িটি গাজিয়াবাদের গঢ়ি গ্রামে অবস্থিত। গঢ়ি গ্রামটি হাপুড়-মোদিনগর সড়কের উপর অবস্থিত। অনেকেই এই গ্রামকে ‘গঢ়ি গদানা’ নামেও চেনেন। স্বাধীনতার আগে, ১৯৩৯ সালে এই বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি প্রয়াত কুঁওয়ার ববেন্দ্র সিং নেহরা (বাব্বু)-র বাড়ি, যিনি একজন কৃষক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিকবার জনপদ পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই বিশাল বাড়িটি নির্মাণে চারটি ইটভাটা ব্যবহার করা হয়েছিল। মাত্র ছয় মাসে বাড়িটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়। বর্তমানে উদয় সিং নেহরা এই বাড়িটির দেখভাল করেন।
একটি সাক্ষাৎকারে উদয় সিং বলেন, “এই হাভেলিটি ১৯৩৯ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি ৮০ বছরেরও বেশি পুরনো। আমাদের প্রপিতামহ রামচরণ সিং নেহরা এই হাভেলিটি নির্মাণ করেছিলেন। আমি যতদূর শুনেছি, মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। এই নির্মাণকাজের জন্য এখানেই চারটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছিল। টানা ছয় মাস দিন-রাত কাজ চলেছিল। আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা বেগমাবাদে থাকতেন। আমাদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। আমরা আখ, ধান এবং গমের চাষ করি।”
প্রবেশদ্বার থেকে হাভেলি পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য ২০ ফুট চওড়া পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। হাভেলির মূল প্রবেশপথেই ‘রাম নিবাস’ লেখা রয়েছে। প্রবেশপথের এই পাকা রাস্তার দু’পাশে পার্ক রয়েছে। উদয় সিং বলেন, যা কিছু আছে সবই তাঁদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া। তিনি নতুন করে কোনও নির্মাণ করেননি, শুধু পূর্বপুরুষদের হাভেলিটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।
এই হাভেলিকে ঘিরে আরও একটি বিস্ময়কর বিষয় রয়েছে। পশ্চিম দিক দিয়ে হাভেলিতে প্রবেশ করা হলেও, ভেতরে মূল হাভেলিটি উত্তরমুখী করে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি একটি দোতলা হাভেলি। উদয় সিং জানান, তাঁদের পুরো পরিবার এখনও একসঙ্গেই বসবাস করেন, শুধু চাষের জমির ভাগাভাগি হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর বাবা ববেন্দ্র সিং নেহরা ২০০০ সালে জেলা পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং জয়ীও হয়েছিলেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা পঞ্চায়েতের উপ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
উদয় সিং নিজেও জেলা পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। এই হাভেলিটি কনট প্লেসের আদলে একজন স্থপতির সহায়তায় নির্মাণ করা হয়েছিল। পুরো হাভেলিতে মোট ৫২টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষই ব্যবহার করা হয়, কোনওটিই বন্ধ নেই। হাভেলির সঙ্গে যুক্ত একটি পৃথক অংশে কৃষিকাজের সরঞ্জাম এবং ট্র্যাক্টর রাখার জন্য আলাদা একটি প্রাঙ্গণ তৈরি করা হয়েছে। পুরো হাভেলির দেওয়াল ১৪ ইঞ্চি পুরু। এটি চুন ও ইট দিয়ে নির্মিত। ছাদের উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। এমনকি, রান্নাঘরটিও এখনও পুরনো অবস্থায় রয়েছে। হাভেলিটি দুই তলা। প্রথম তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় ওঠার জন্য দু’দিকে সিঁড়ি রয়েছে। দ্বিতীয় তলাতেও রান্নাঘর ও একাধিক কক্ষ নির্মিত হয়েছে।
হাভেলির পিছনেও একটি আঙিনা রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন গাছপালা লাগানো হয়েছে। উদয় সিং জানান, তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের জমি অক্ষত রেখেছেন। এক ইঞ্চি জমিও তিনি বিক্রি করেননি, আবার এক ইঞ্চি জমিও কেনেননি। হাভেলির চারপাশে ২৫০ বিঘা জমি বিস্তৃত, যার ঠিক মাঝখানে এই হাভেলিটি নির্মিত। যখন এই হাভেলি তৈরি হয়েছিল, তখন আশপাশে কোনও বসতি ছিল না। উদয় সিংয়ের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষরাই এই গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা।
(Feed Source: news18.com)
