
West Medinipur News: পেশায় তিনি একজন গ্রামীণ চিকিৎসক। কিন্তু তাঁর চেম্বারে গেলে স্টেথোস্কোপের পাশাপাশি শোনা যায় দোতারার মিষ্টি সুর। লালন ফকির থেকে বাংলার বাউল— চিকিৎসকের গলায় লোকগান শুনেই অর্ধেক রোগ সেরে যায় রোগীদের।
নারায়ণগড়, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: কথায় আছে, মিউজিক থেরাপি চিকিৎসার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওষুধের পাশাপাশি গানের সুর নিমেষেই ভুলিয়ে দিতে পারে অসুখের তীব্র যন্ত্রণা। আর এই কথাটাই অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে চলেছেন কালিপদ টুং। পেশায় তিনি একজন গ্রামীণ চিকিৎসক। কিন্তু তাঁর চেম্বারে গেলে স্টেথোস্কোপের পাশাপাশি শোনা যায় দোতারার মিষ্টি সুর। লালন ফকির থেকে বাংলার বাউল— চিকিৎসকের গলায় লোকগান শুনেই অর্ধেক রোগ সেরে যায় রোগীদের।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় থানার কুশবসান গ্রামের বাসিন্দা কালিপদবাবু। সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ফাঁকে গত প্রায় ২৫ বছর ধরে এভাবেই পেশার সঙ্গে নিজের নেশাকে এক করে চলেছেন তিনি। চেম্বারে রোগী দেখার পর তিনি যখন দোতারা হাতে তুলে নেন, তখন মুগ্ধ হয়ে শোনেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা।
ছোটবেলাটা অবশ্য এমন সুরেলা ছিল না। এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। আর্থিক অনটনের কারণে সেভাবে গানবাজনার চর্চা হয়নি। এমনকী, একটা হারমোনিয়াম কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। বাদ্যযন্ত্রের অভাবে ছেলেবেলার গানের তালিম তাই বেশিদূর এগোয়নি। কিন্তু মনের কোণে সুপ্ত থাকা ইচ্ছের মৃত্যু হতে দেননি তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের শুরু করেছেন সঙ্গীত সাধনা। এখনও একাধিক গুরুর কাছে ভবা পাগলার গান, লোকগান এমনকি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিচ্ছেন তিনি।
ওষুধ তো আছেই, তবে তাঁর গলায় সুরের জাদুতেও যে রোগীরা বেশ দ্রুত সুস্থ ও ভাল হয়ে ওঠেন, তা বলাই বাহুল্য। শৈশবের অপূর্ণ সাধ আজ তাঁর জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে একজন চিকিৎসকের এই অভিনব ‘মিউজিক থেরাপি’ এবং পেশার সঙ্গে নেশার এমন একাত্মতা রোগীদের কাছে যেন এক খোলা হাওয়ার মত। চিকিৎসক শিল্পীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।
