পার্থক্য গড়ে দিল ‘ডেথ ওভার’, রোহিতের শতরান সত্ত্বেও লর্ডসে হার ভারতের

পার্থক্য গড়ে দিল ‘ডেথ ওভার’, রোহিতের শতরান সত্ত্বেও লর্ডসে হার ভারতের

 

লন্ডন: পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করতে নেমে ঐতিহাসিক শতরান হাঁকিয়েছিলেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma), লর্ডসে নিজের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছিলেন বিরাট কোহলিও (Virat Kohli)। তাও রো-কোর লড়াই সত্ত্বেও ভারতের জয়টা অধরাই রয়ে গেল। ২৭ রানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে (ENG vs IND) তৃতীয় ওয়ান ডে হেরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের পাশাপাশি ওয়ান ডে সিরিজ়ও হারল ভারতীয় দল।

৩৮৮ রান তাড়া করতে নেমে এদিন শুরুটা বেশ ধীর গতিতে দেখেশুনেই করেছিল ভারতীয় দল। প্রথম দিকে রোহিত তেমন স্ট্রাইকই পাচ্ছিলেন না। নতুন বলে গাস অ্যাটকিনসন, জোফ্রা আর্চারদের বেশ দেখেশুনেই খেলেন তাঁর ওপেনিং পার্টনার শুভমন গিল। তবে খানিকটা সময় গড়ালে একটু থিতু হয়ে ধীরে ধীরে আক্রমণ শুরু করে ভারত। আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন শুভমন গিল। ১১তম ওভারে ভারতীয় দল বিনা উইকেটে ৫০-র গণ্ডি পার করে। নতুন বলটা দেখেশুনে খেলার পর আক্রমণ শানানো শুভমন গিলও ৫৩ বলে অর্ধশতরান পূরণ করে ফেলেন।

গিলই দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন রোহিত তাঁকে সঙ্গ দেন। দেখতে দেখতে রোহিতও ১০০-র স্ট্রাইক রেটে অর্ধশতরান পূরণ করে ফেলেন। ঠিক যখন মনে হচ্ছিল গিল নিশ্চিত শতরানের পথে এগোচ্ছেন, তখনই ভারতীয় দলকে প্রথম ধাক্কা দেন আদিল রশিদ, ৭৭ রানে ফেরান ভারতীয় অধিনায়ককে। তবে তাতে ইনিংসে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার রোহিত এবং কোহলি ভারতীয় ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। সময়, সুযোগ বুঝে রোহিত মারা শুরু করেন।

ম্যাচের আগে রানের অভাবের মধ্যে দিয়ে যাওয়া যে রোহিতের এটাই শেষ ম্যাচ হবে বলে রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছিল। সেই রোহিতই সমস্ত সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে ৮৪ বলে দুরন্ত এক শতরান হাঁকিয়ে ফেলেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় হিসাবে আইকনিক লর্ডসে ওয়ান ডেতে সেঞ্চুরি হাঁকালেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটি তাঁর অষ্টম শতরান। কোহলির সঙ্গে মিলে তিনি ২১তম বার শতরানের পার্টনারশিপও গড়েন। রোহিতকে ১৩৮ রানে আউট করে রো-কোর ১১৩ রানের পার্টনারশিপ ভাঙেন জেকব বেথেল। তা সত্ত্বেও, ৪৩তম ওভারে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে তিনশোর গণ্ডি পার করে ফেলে ভারতীয় দল। তখনও ক্রিজে উপস্থিত চেজ মাস্টার বিরাট কোহলি। ৪৬ বলে নিজের কেরিয়ারে প্রথমবার লর্ডসে অর্ধশতরানের গণ্ডিও পার করে ফেলেছিলেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় সমর্থকরা জয়ের স্বপ্নই দেখছিল। তবে এরপরেই নামে ব্যাটিং ধস। একই ওভারে ঈশান কিষাণ ও শ্রেয়স আইয়ারকে মন্থর গতির বলে আউট করেন স্যাম কারান। নিজের পরের ওভারে কোহলিকে ৭৪ রানে ফিরিয়ে খেলার মোড়ই ঘুরিয়ে দেন ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার। এরপরে ভারতীয় দলের জয়ের আশা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হতে থাকে। একের পর এক সাজঘরে ফেরেন কেএল রাহুল, অক্ষর পটেলরা। শেষের দিকে গুরনুর ও অর্শদীপ সিংহ ব্যাট চালিয়ে অষ্টম উইকেটে ৩১ রান যোগ করেন। তবে তা কখনই জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

শেষের তিন ওভারেই যেখানে ইংল্যান্ড বিনা উইকেটে ৬২ রান যোগ করেছিল, সেখানে ভারত ৪৪ থেকে ৪৮ ওভারের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্য়াচ ও সিরিজ় খুইয়ে বসে।

(Feed Source: abplive.com)